শিলিগুড়িজুড়ে যানজটের দিন শেষ! বর্ধমান রোডের বহু প্রতীক্ষিত উড়ালপুলের উদ্বোধনে একলাফে কী বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

শিলিগুড়ির রাস্তায় নিত্যদিনের যানজটের ভোগান্তি কমাতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুল সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো। এদিন উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রাজ্যজুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের বড় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে আরও শত শত উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শিলিগুড়ির নতুন উড়ালপুল: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শিলিগুড়ির এই ব্যস্ত করিডরে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনের জোরালো আশা, নতুন এই উড়ালপুল চালু হওয়ার ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং দূরপাল্লার গাড়িগুলির যাতায়াত আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
প্রায় ১.১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপুলটি পূর্ত দপ্তর এবং ভারতীয় রেলের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। এর মাধ্যমে হিলকার্ট রোড, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ের মধ্যে যোগাযোগের নতুন ও দ্রুত পথ উন্মুক্ত হলো। শুধু শহরের অভ্যন্তরীণ যান চলাচলই নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও আন্তঃরাজ্য পরিবহণেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে ৫০০টি নতুন ফ্লাইওভার তৈরির মেগা পরিকল্পনা
এদিন ভবিষ্যতের পরিকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, রাজ্যে রেলের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও ৫০০টি নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যৌথ প্রকল্পের ব্যয়ের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হলেও, বর্তমানে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক সম্পূর্ণ অর্থায়নের ভিত্তিতে একাধিক প্রকল্পে এগিয়ে এসেছে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা” মন্ত্রের উল্লেখ করে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
কী বলছেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ?
স্থানীয় বিধায়ক তথা পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের মতে, এই উড়ালপুল শিলিগুড়ির পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি শহরের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে শিলিগুড়ির কৌশলগত গুরুত্ব এর ফলে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর চালু হওয়া এই উড়ালপুল উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কতটা গতিশীল করে তোলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।