গ্লাসগোয় ভারতের ঐতিহাসিক দিন! প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয় শর্মিলা ধনকরের, এক দিনে এল ৬টি পদক

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ (Commonwealth Games 2026)-এর পঞ্চম দিনটি ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে রইল। বলা চলে, গেমসের এই দিনটি এখনও পর্যন্ত ভারতের কাছে অন্যতম সেরা ও সফলতম দিন। এদিন এক দিনের ব্যবধানে ভারতের ঝুলিতে এসেছে এক লাফে হাফ ডজন (ছয়টি) পদক। যার মধ্যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হিসেবে জ্বলজ্বল করছে শর্মিলা ধনকরের ঐতিহাসিক সোনা জয়। এছাড়াও জ্ঞানেশ্বরী যাদব, সর্বেশ কুশারে এবং ভাল্লুরি অজয় বাবু রুপো জয় করেছেন এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ও শিল্পা কে শায়লা জোড়া ব্রোঞ্জ উপহার দিয়েছেন দেশকে। সব মিলিয়ে গেমসে ভারতের মোট পদক সংখ্যা এখন দশে গিয়ে ঠেকেছে।
শর্মিলার ঐতিহাসিক সোনা ও প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে জোড়া চমক
মহিলাদের শট পুট এফ৫৭ ইভেন্টে ৯.৮১ মিটার দূরত্বে কাস্টিং করে সোনা নিশ্চিত করেন শর্মিলা ধনকর (Sharmila Dhankhar), যা কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা-অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে ভারতের প্রথম সোনা। এই ইভেন্টেই উদযাপনের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায়, যখন নাইজেরিয়ার প্রতিযোগী ইউকেরিয়া আইয়াজি বাতিল ঘোষিত হওয়ায় চতুর্থ স্থান থেকে সরাসরি ব্রোঞ্জ পদকে উন্নীত হন ভারতের আরেক অ্যাথলেট শিল্পা কে শায়লা। একই ইভেন্টে দুই ভারতীয়র পোডিয়ামে জায়গা পাওয়ার এই মুহূর্তটি দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে। এই ইভেন্টে ৮.৬৫ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে রুপো জেতেন ঘানার জিন্নাবু ইসাহ।
অন্যদিকে, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের লড়াইয়েও বড় সাফল্য এসেছে। পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টে ২.২৫ মিটার লাফিয়ে জাতীয় রেকর্ডধারী সর্বেশ কুশারে ইতিহাস গড়েছেন। কমনওয়েলথ গেমসের এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি রুপোর পদক জিতেছেন। জামাইকার রোমেইন বেকফোর্ড সমপরিমাণ উচ্চতা পার করলেও ফাউল কম থাকায় সোনা জিতে নেন।
ভারোত্তোলনে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দাপট
ভারোত্তোলন যে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেত্র, তা গ্লাসগোতেও ফের প্রমাণিত হলো। পঞ্চম দিনে এই ইভেন্ট থেকেই এসেছে মোট তিনটি পদক:
জ্ঞানেশ্বরী যাদব: অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মীরাবাঈ চানুকে জায়গা করে দিতে নিজের পরিচিত ৪৯ কেজি বিভাগ থেকে সরে এসে ৫৩ কেজিতে নামেন ২৩ বছরের এই তরুণী। নিজের সেরা ১৯৯ কেজি (স্ন্যাচে ৮৮ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১) তুলে তিনি দুর্দান্ত রুপো জিতে সবাইকে চমকে দেন। নাইজেরিয়ার ওনোমে ওমোলোলা ২০৬ কেজি তুলে সোনা জেতেন।
বিন্দিয়ারানি দেবী: মহিলাদের ৫৮ কেজি বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেন বিন্দিয়ারি (Bindyarani Devi)। এর আগে বার্মিংহামে তিনি রুপো জিতেছিলেন। গ্লাসগোয় তিনি মোট ১৯৯ কেজি ওজন তোলেন। এই বিভাগে নাইজেরিয়ার রাফিয়াতু ফোলসাদে সোনা ও কানাডার অ্যান সোফি রুপো পান।
ভাল্লুরি অজয় বাবু: পুরুষদের ৭৯ কেজি বিভাগে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হয় ২২ বছরের তরুণ ভাল্লুরি অজয় বাবুর। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড গড়ার পর তিনি মোট ৩৩০ কেজি ওজন তোলেন। তবে মালয়েশিয়ার মহম্মদ এরি হিদায়াত ৩৩১ কেজি তুলে সোনা ছিনিয়ে নেন এবং অজয়কে রুপো সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
বক্সিংয়ে জয়রথ ও অন্যান্য ইভেন্টের ফলাফল
রিংয়ে ভারতীয় বক্সারদের (Indian Boxers) দাপট বজায় রয়েছে। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগের প্রি-কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের উইলিয়াম হিউইটকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেন সচিন সিওয়াচ। ৮০ কেজি বিভাগে অ্যান্টিগুয়ার জালান জানকে ৫-০ ব্যবধানে একপ্রকার উড়িয়ে দেন অঙ্কুশ। মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগেও বতসোয়ানার লেথাবোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন সাক্ষী চৌধুরি। তবে পুরুষদের ৭০ কেজি বিভাগে হেরে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন সুমিত কুণ্ডু।
দীর্ঘ লাফ বা লং জাম্পে ৮.০১ মিটার লাফিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন মুরলী শ্রীশঙ্কর। এছাড়া ৭.৭৭ মিটার লাফ দিয়ে যোগ্যতা অর্জন করেছেন লোকেশ সত্যনাথনও। সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস এবং লন বলসের মতো অন্যান্য ইভেন্টেও ভারতীয় অ্যাথলিটরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদক তালিকায় ভারতের বর্তমান অবস্থান
পঞ্চম দিনের খেলা শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দু’টি সোনা, পাঁচটি রুপো এবং তিনটি ব্রোঞ্জ—সহ মোট ১০টি পদক (CWG 2026 Medal Tally)।
একনজরে গ্লাসগোর সমস্ত পদকজয়ীরা:
মীরাবাঈ চানু — সোনা (ভারোত্তোলন)
শর্মিলা ধনকর — সোনা (প্যারা শট পুট)
ঋষিকান্ত সিং — রুপো (ভারোত্তোলন)
রাজা মুথুপাণ্ডি — রুপো (ভারোত্তোলন)
জ্ঞানেশ্বরী যাদব — রুপো (ভারোত্তোলন)
সর্বেশ কুশারে — রুপো (হাই জাম্প)
ভাল্লুরি অজয় বাবু — রুপো (ভারোত্তোলন)
বিন্দিয়ারানি দেবী — ব্রোঞ্জ (ভারোত্তোলন)
শিল্পা কে শায়লা — ব্রোঞ্জ (প্যারা শট পুট)
ঝান্ডু কুমার — ব্রোঞ্জ (প্যারা পাওয়ারলিফটিং)