মায়ের সোনা বিক্রি করে নেতার হাতে টাকা! আবাস যোজনার দুর্নীতির ভাইরাল হতেই উধাও তৃণমূল নেতা

আবাস যোজনা সহ সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠল বসিরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা রাজ্য তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন (INTTUC)-এর সাধারণ সম্পাদক কৌশিক দত্তের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের পর থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
সম্প্রতি তাঁর টাকা নেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি তৃণমূল নেতার হাতে টাকার বান্ডিল তুলে দিয়ে বলছেন যে তিনি নিজের মায়ের সোনার গহনা বিক্রি করে এই টাকা জোগাড় করেছেন।
স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগ ও বিক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গরিব মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও কাউকে ঘর দেওয়া হয়নি, এমনকি ওয়ার্ডের নিকাশি নালা বা অন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজও তিনি করেননি বলে অভিযোগ। এই দুর্নীতির কথা সামনে আসার পর থেকেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং পরবর্তীতে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শুভম দে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা পরিষ্কার দেখেছেন কীভাবে ঘরে বসে কৌশিক দত্ত বান্ডিল বান্ডিল (১০, ২০, ৫০০ থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত) নোট নিচ্ছেন। বিধানসভা ভোটের আগে এলাকায় উসকানিমূলক কথা বলার পাশাপাশি ভোটারদের ঠিকমতো ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে অভিযুক্ত নেতার ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
এই ঘটনায় রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা বসিরহাট দক্ষিণের পরাজিত প্রার্থী ডা. শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের কাউন্সিলর মানেই চোর। আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি আজ জলের মতো পরিষ্কার।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কৌশিক দত্ত তো কেবল একটা ছোট মাছ, এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দুর্নীতিবাজদেরই জেলযাত্রার দিন ঘনিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পলাতক নেতার কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।