শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরই জোরালো হল নতুন আন্দোলন, সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ময়দানে ‘ই-20 জনতা পার্টি’!

ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য কি তবে নতুন কোনো রাজনৈতিক মোড় আনতে চলেছে দেশে? পড়ুয়া ও শিক্ষকদের স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার দাবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জ্বালানি তেলের বাজারে উঠল এক বিস্ফোরক দাবি। পেট্রলকে সম্পূর্ণ ইথানল মুক্ত করার দাবিতে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ‘ই-20 জনতা পার্টি’। সিজেপি (CJP)-র কায়দায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার শুরু করে ইতিমধ্যেই সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে তারা।
শিক্ষার পর এবার জ্বালানি নীতিতে ঝাঁকুনি
সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো নজিরবিহীন ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদি সরকারের গত ১২ বছরের কার্যকালে এমন ঘটনা বিরল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যেভাবে সরকার ছাত্রদের চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, তাতে আন্দোলন যে সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে, তা স্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই এবার আসরে নেমেছে ‘ই-20 জনতা পার্টি’। তাদের স্পষ্ট দাবি, দেশের প্রতিটি উপভোক্তাকে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল দিতে হবে, যাতে এক ফোঁটাও ইথানল মেশানো থাকবে না।
“উপভোক্তার অধিকারই আমাদের অগ্রাধিকার। দেশের তৈল নীতি তৈরি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। কোন তেল কেনা উচিত বা অনুচিত, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার একমাত্র ক্রেতারই থাকা উচিত।”— এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানাল ই-20 জনতা পার্টি।
কেন এই ক্ষোভ? নেপথ্যে ইথানল বিতর্ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবির পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। ভারত সরকারের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে যে জ্বালানি বিক্রি হয়, তার সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানল মেশানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাজারে কোনো অপশন বা বিকল্প না থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হয়ে ইথানল মিশ্রিত পেট্রলই কিনতে বাধ্য হন। এতে উপভোক্তার ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলেই অভিযোগ নতুন এই দলের।
পেট্রলে ইথানল মেশানোর এই নীতি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কেন্দ্র অতীতে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল যে এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। তবে বিতর্কের আসল জায়গাটি অন্যখানে:
গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল গাড়ির ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। যদিও প্রথমে কেন্দ্র এই অভিযোগ মানতে নারাজ ছিল, পরবর্তীতে তা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়।
মাইলেজ হ্রাস: উপভোক্তাদের একটি বিশাল অংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই জ্বালানিতে গাড়ির মাইলেজ বা জ্বালানি দক্ষতা অনেকটাই কমে যায়।
সিজেপি-র পর এবার ই-20?
শিক্ষক ও পড়ুয়া আন্দোলনের সাফল্যের আবহে পেট্রল নিয়ে এই নতুন আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সরকারের নীতির বিরুদ্ধে এই ‘ই-20 জনতা পার্টি’-র নতুন রাজনৈতিক কৌশল আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা বড় ঝড় তোলে, সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।