যুবসমাজকে বড় দায়িত্ব দিতে ঝাঁপাচ্ছেন রেবন্ত! লোকসভা-বিধানসভা ভোটে বয়সের সীমা কমানোর মাস্টারস্ট্রোক

ভারতে নির্বাচন লড়ার বয়সসীমা এত বেশি কেন? এই প্রশ্ন তুলে দেশের রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব আনলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। রবিবার তিনি ঘোষণা করেন যে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার দাবিতে আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে। সেখানে এই সংক্রান্ত একটি বিল পাস করিয়ে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। কী বললেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী?রেবন্ত রেড্ডি জানান, বর্তমান নিয়মে রাজ্যসভায় প্রার্থী হওয়ার বয়স ৩০ এবং লোকসভায় ২৫ বছর। কিন্তু জার্মানি, গ্রেট ব্রিটেন বা সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক নজির টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে ১৮ বা ২১ বছর বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা শীর্ষ পদে বসা যায়, সেখানে ভারতে যুবসমাজকে কেন পিছিয়ে রাখা হবে?তিনি বলেন, “একজন ২১ বছর বয়সি যুবক যদি সিভিল সার্ভিস পাস করে আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) অফিসার হতে পারে, স্থানীয় নির্বাচনে মেয়র কিংবা জিলা পরিষদ চেয়ারপার্সন হতে পারে, তবে তিনি কেন বিধায়ক বা সংসদ সদস্য হতে পারবেন না?”বিশেষ অধিবেশন এবং দেশব্যাপী রূপরেখাতেলেঙ্গানা সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাজ্য বিধানসভা ও আইন পরিষদে এই বিশেষ অধিবেশন বসবে। সেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পর বিল পাস করে তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এ ছাড়াও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সহায়তায় এই দাবিটি লোকসভাতেও জোরালোভাবে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। “দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই হলো জেন-জি (Gen-Z) বা যুবসমাজ, অথচ সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ১ শতাংশেরও কম। দেশের দায়িত্ব এবার তরুণদের হাতে তুলে দিতে হবে,” বলেছেন রেবন্ত রেড্ডি।অতীতের ঐতিহাসিক সংস্কারের স্মৃতিচারণরেবন্ত রেড্ডি এই প্রসঙ্গে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং পিভি নরসিমা রাওয়ের ঐতিহাসিক নির্বাচনী সংস্কারের কথা স্মরণ করেন। রাজীব গান্ধী যেখানে একসময় ভোটাধিকারের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করেছিলেন, এবং নরসিমা রাও স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বয়স ২৫ থেকে কমিয়ে ২১ করেছিলেন— সেই পথ ধরেই তেলেঙ্গানা সরকার এবার বড় পরিবর্তনের অগ্রণী ভূমিকা নিতে চাইছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে জেন-জি আন্দোলন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আবহে রেবন্ত রেড্ডির এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মহলে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত করার নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।