‘পুরো যাত্রা ছাত্রকল্যাণের সাক্ষ্য বহন করে!’ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় প্রথমবার মুখ খুলল কেন্দ্র

দেশজুড়ে চলা তীব্র ও নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পর এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এল। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বিদায়ী মন্ত্রীর গোটা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনকে জনসেবা এবং ছাত্রকল্যাণের এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু?
সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ একটি সুদীর্ঘ ও তাত্পর্যপূর্ণ পোস্ট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লিখেছেন—
“প্রকৃত নেতৃত্বের মূল্যায়ন বা পরিমাপ কখনোই খণ্ডকালীন ঘটনার ভিত্তিতে হয় না, তা মাপা হয় কয়েক দশকের ধারাবাহিক কাজের ভিত্তিতে। ধর্মেন্দ্র প্রধানজির বর্ণময় কর্মজীবন হলো জনসেবা এবং ছাত্রকল্যাণের প্রতি আজীবন নিবেদিত থাকার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রিজিজু আরও বলেন যে, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল শক্তিশালী করতে এবং দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রতিটি সরকারি নীতির কেন্দ্রে রাখতে তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যে এক অতুলনীয় নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতা প্রত্যক্ষ করেছেন।
রিজিজুর কথায়—
“শিক্ষা মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যে ধরনের অসামান্য অধ্যবসায়, সংবেদনশীলতা ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন, তা তিনি সাহসিকতার সঙ্গেই ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর এই নিরলস জনসেবা এবং একটি শক্তিশালী ভারত গঠনে বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আগামী দিনেও তিনি একই রকম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশ ও সমাজের সেবা করে যাবেন—তাঁর সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”
NEET বিক্ষোভ ও মন্ত্রীর পদত্যাগের নেপথ্য প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিতর্ক এবং রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে গত শনিবার নিজের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, এটি স্রেফ কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াই নয়; বিগত ১০ দিনের দেশের সামগ্রিক ঘটনাক্রম তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত ও চিন্তিত করেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল— এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে না পারে এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনো জটিল আইনি জালে জড়িয়ে না পড়ে, সেই কথা মাথায় রেখেই তিনি এই বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বর্তমান কার্যকালে লাগাতার গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে এহেন কোনো হেভিওয়েট ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করছেন।