প্রশ্নফাঁস করলেই ১০ কোটি জরিমানা ও ১০ বছরের জেল! কড়া আইন আনতে চলেছে মোদী মন্ত্রিসভা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষমুক্ত করতে এবং জালিয়াতির পথ চিরতরে বন্ধ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। যন্তর মন্তরে লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যেই শুক্রবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস সংশোধনী বিল’-এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্তদের ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
আগামী সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং।
নতুন বিলে কী কী কঠোর ব্যবস্থা থাকছে?
কড়া সাজা ও জরিমানা: প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী মাফিয়া ও চক্রের বিরুদ্ধে আনা এই বিলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে।
ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত: এই ধরনের অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যেগুলিকে ৩ মাসের মধ্যে রায় দিতে হবে।
বর্তমান আইনের সংশোধন: পাবলিক পরীক্ষা (অনানুষ্ঠানিক উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪-কে আরও শানিত করে এই নতুন সংশোধনী আনা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ও সরকারের পদক্ষেপ
বৃহস্পতিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই আইন অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রায় আড়াই মাস আগে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সরকার একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ও ছাত্র আন্দোলন
এদিকে সরকারের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রতুল ও বিলম্বিত’ বলে অভিহিত করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে এখনও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও সিজেপি-র নেতৃত্বে ছাত্র বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।