মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে বড় ঘোষণা! জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কী কী বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার?

মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৬তম প্রয়াণ দিবসে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ‘মহানায়ক’ স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উত্তম কুমারের নতুন মূর্তি উন্মোচন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং বিধায়ক-তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
মূর্তি উন্মোচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিক আলোচনা করে ঠিক করেছিলাম আজকের দিনটি স্মরণ করব। তাঁর শেষকৃত্য যেখানে হয়েছে, সেখানে পরিবারের সম্মতি নিয়ে একটি ফাইবারের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করব এবং তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব। তবে, প্রকৃতপক্ষে মহানায়কের আবির্ভাবের দিনটিকে আরও বড় পরিসরে উদযাপন করা উচিত, কারণ সেদিনই তিনি এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ। বিশেষ ওই দিনটি স্মরণ করার জন্য আমাদের কাছে নানা প্রস্তাব এসেছে। বিগত দিনে আমরা যা নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছি বা ভুল করে ফেলেছি, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

মহানায়কের জন্মশতবর্ষ ও স্মরণে গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তগুলি:

জন্মশতবর্ষ উদযাপন: আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর জাঁকজমকপূর্ণভাবে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ পালন করা হবে।

ফিল্ম সেন্টার ও মঞ্চ সংস্কার: কলকাতার বুকে মহানায়কের নামাঙ্কিত একটি আধুনিক ফিল্ম সেন্টার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত ‘উত্তম মঞ্চ’-এর সম্পূর্ণ সংস্কার ও আধুনিকীকরণের দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতি কমিটি গঠন: নন্দনে বা রবীন্দ্রসদনে প্রস্তুতি সভা ডেকে মহানায়কের শতবর্ষ পালনের জন্য একটি বিশেষ প্রস্তুতি কমিটি তৈরি করা হবে। সেই কমিটির পরামর্শ মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্মতি নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তি উন্মোচনের পর সরাসরি তাঁর বাসভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *