ঝাড়গ্রামে চরম সংকটে তেরো হাজার লোকশিল্পী! তিন মাস ধরে ভাতা বন্ধ থাকায় কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পীঠস্থান ঝাড়গ্রামের সঙ্গে আদিবাসী লোকনৃত্য ও গান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এ জেলার স্থানীয় শিল্পীদের নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টার ফলেই আজও ঝুমুর, ভূয়াং, পাইকা ও পরভার মতো প্রাচীন লোকনৃত্যগুলি সগৌরবে টিকে রয়েছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রায় ১৩ হাজার লোকশিল্পীর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এই শিল্পীদের ভাতা বা অনুদানের টাকা সময়মতো না মেলায় তাঁদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

ঠিক কী কারণে তৈরি হয়েছে সংকট?
জানা গিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া ‘লোকপ্রসার প্রকল্প’-এর মাধ্যমে শিল্পীদের প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার বা পেনশনের নিয়ম রয়েছে। এতদিন এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি শিল্পীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে টানা তিন মাস ধরে এই ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন ঝাড়গ্রামের লোকশিল্পীরা।

শিল্পীদের ক্ষোভ ও আশঙ্কা: জামবনী ব্লকের দুবড়া গ্রামের পরভা নৃত্যশিল্পী পরিমল দলাই জানান, গত তিন মাস ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টে ভাতার একটি টাকাও ঢোকেনি। এ বিষয়ে তিনি জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে গিয়েও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি, যা তাঁদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংকটে প্রাচীন শিল্পরীতি: চিল্কিগড়ের প্রাচীন নৃত্যশিল্পের পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালাচ্ছেন শিল্পীরা। জামবনীর চাং নৃত্য শিল্পী খোকন দলাইয়ের দল ‘মা শীতলা চ্যাং সম্প্রদায়’-এ আটজন সদস্য রয়েছেন। মূলত লোধাশবর গোষ্ঠীর মানুষ বিভিন্ন পুজো-পার্বণে এই চ্যাং নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। বিগত সরকারের আমলেই এই নৃত্যের পুনরুজ্জীবন শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ গত তিন মাস ধরে সরকারি ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং দপ্তর থেকেও কোনো সদুত্তর না মেলায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।

আশার আলো খুঁজছেন শিল্পীরা
সরকারি দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো না হলেও, শিল্পীদের মনোবল ভাঙেনি। তাঁদের আশা, বর্তমান সরকারের আমলেও এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। তবে ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ও লোকশিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্পগুলি বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *