প্রশ্নফাঁস করলে সোজা জেলের ভাত! আইন আরও কড়া করতে আজই মোদী মন্ত্রিসভায় কোন বড় সিদ্ধান্ত?

দেশজুড়ে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে এবার জালিয়াতি-বিরোধী আইন আরও কঠোর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বড় তথ্য সামনে এসেছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সরকার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’ (Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024)-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করেছে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর অনুমোদন মিলতে পারে।
আইনে কী কী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে?
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য এই নতুন আইনে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ (Fast-Track Court) গঠনের সংস্থান যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অপরাধীদের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার শর্তগুলোও আরও কঠোর করা হতে পারে।
বর্তমান নিয়ম: বর্তমানে এই আইনের কিছু নির্দিষ্ট ধারায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া অপরাধের তথ্য গোপন করলে বা রিপোর্ট না করলে পরিষেবা প্রদানকারীদের ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানার নিয়ম রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটি ক্ষেত্রেও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। এই সমালোচনার মাঝেই সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ও পরবর্তী পরিকল্পনা
বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অপরাধীদের ইতিমধ্যেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে সম্পূর্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিন্দিতে বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বিভাগগুলোর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আজ গভীর রাতে এ সংক্রান্ত অনুমোদন মিলেছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে এবং সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহের অধিবেশনে যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে।” মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আগামী সোমবারই লোকসভায় এই সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।