“শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কেউ যেন ব্যবহার না করে!” অনশন ভাঙার পরই কড়া বার্তা সোনামের

কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক জোরালো ও লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে নিজের ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহার করলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মন্ত্রীদের জবাবদিহি কীভাবে নির্ধারিত হবে বা কাকে পদত্যাগ করতে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে চান না।

দীর্ঘ দরকষাকষির পরই অনশন ভঙ্গ
শুক্রবার সকালে প্রকাশিত প্রথম ভিডিও বার্তায় সোনাম ওয়াংচুক জানান, “গত দু’দিন ধরে আমি খুব কঠোরভাবে দরকষাকষি করছিলাম। আমি সরকারের কাছে লিখিত আশ্বাস চাইছিলাম। এটি করতে দু’দিন সময় লেগেছে, তাই আমাকেও অনশন আরও দু’দিন বাড়াতে হয়েছিল। অবশেষে আজ সরকার আমাদের লিখিত আশ্বাস দিয়েছে।”

গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জে.পি. নাড্ডা), জিতেন্দ্র সিং, লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, পরিবার এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি জুসের গ্লাস মুখে দিয়ে অনশন ভঙ্গ করেন। অনশন প্রত্যাহারের আগে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে শান্তি বজায় রাখার জোরালো আবেদন জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কোনো ধরনের হিংসার সমর্থন করেন না এবং অসামাজিক বা সমাজবিরোধী শক্তিগুলি যাতে এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারের সংবেদনশীলতার প্রশংসা
NEET-UG 2026 প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং বিগত দিনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের উদ্বেগের প্রতি সাড়া দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ যে সরকার শিশুদের, ক্ষতিগ্রস্তদের এবং গত ২০ জুলাইয়ের সময় শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত যুবকদের প্রতি সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।”

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, শাসকদল ও বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী দিনে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিয়ে সংসদের ফ্লোরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও জবাবদিহি নিয়ে সংযত অবস্থান
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সরাসরি কোনো দাবি তোলেননি সোনাম ওয়াংচুক। মন্ত্রীর পদত্যাগ বা নির্দিষ্ট কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি তোলার পরিবর্তে তিনি পুরো বিষয়টি সরকারের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমি নিশ্চিত, ছাত্রছাত্রীরাও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিই জানিয়ে আসছে। উপযুক্ত সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা বলে দেওয়ার আমি কেউ নই। মন্ত্রক এবং মন্ত্রীর দায়িত্বের বিষয়টি আপনারাই বিবেচনা করবেন, এবং আমি নিশ্চিত, আপনারা ইতিমধ্যেই তা নিয়ে ভাবছেন।” ওয়াংচুকের এই সংযত ও পরিপক্ব অবস্থান গোটা মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *