দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স! ঘুষ চাওয়ায় রামপুর চেকপোস্টে সাসপেন্ড দুই এমভিআই, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফের একবার ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতির কথা জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। এবার আর কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, একেবারে হাতেনাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হলো। পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে একটি ট্রাক আটক করে ঘুষ চাওয়ার গুরুতর অভিযোগে বড়সড় কোপ পড়ল দুই সরকারি আধিকারিকের ওপর।

রামপুর চেকপোস্ট কাণ্ড ও সাসপেন্ড দুই এমভিআই
সূত্রের খবর, সম্প্রতি পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে একটি ট্রাক আটকানো হয়। অভিযোগ ওঠে, ট্রাকটির সমস্ত প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চালকের কাছে বেআইনিভাবে ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং গাড়িটিকে অনৈতিকভাবে আটকে রাখা হয়।

এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘুষ চাওয়ার ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর (MVI)— নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সমস্ত নথিপত্র ও অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-র কাছে।

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের কোনো স্তরেই extortion বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক রাখা সমস্ত বাণিজ্যিক গাড়ি অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ বার্তা, দুর্নীতি বা ঘুষের সঙ্গে যুক্ত কোনো সরকারি আধিকারিককেই রেয়াত করা হবে না। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তেই এই পদক্ষেপ।

ভুয়ো জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ও বাম আমলের দুর্নীতি নিয়ে তোপ
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ভেরিফিকেশন (Birth & Death Certificate Verification) প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিরোধীদের প্রতি তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার নিজের মতো করে কাজ করছে। এসআইআর (SIR)-এর সময় কিংবা তার আগে যেভাবে দেদার ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে না দেখলে সমাজকে বাঁচানো সম্ভব নয়, সমাজবিরোধী কাজও আটকানো যাবে না।”

এরপরই পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা করে তিনি যোগ করেন, “বিভিন্ন জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারণ গত ১৫ বছরের জঞ্জাল শুধু পরিষ্কার করতে হচ্ছে এমন নয়, বাম আমলের কড়া দুর্নীতির চড়া মাসুল আমাদের দিতে হচ্ছে। সেগুলোর শেষ এখন করতেই হবে। যারা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং যারা ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে অপরাধ করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *