বিশ বছর ধরে জঙ্গলবন্দি! বাম-তৃণমূলের শিলান্যাসের মারপ্যাঁচ কাটিয়ে অবশেষে কি ভাগ্য বদলাচ্ছে বীজপুর স্টেডিয়ামের?

বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমান তৃণমূল আমল— দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদল দেখলেও বীজপুর বিধানসভার জোনপুর স্টেডিয়ামের ভাগ্যের চাকা এত দিন এক বিন্দুও ঘোরেনি। কেবল কাগজের কলমে শিলান্যাসের ঢাকঢোল পেটানো হলেও গত দুই দশকে আলোর মুখ দেখেনি এই স্টেডিয়ামটি। অবশেষে কুড়ি বছরের বঞ্চনা ও অবহেলা ঘুচিয়ে জোনপুর স্টেডিয়াম নির্মাণের জট কাটার আশা দেখছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। এবার বিজেপির আমলে স্টেডিয়ামের কাজ জোরকদমে শুরু করলেন বীজপুর বিধানসভার বিধায়ক সুদীপ্ত দাস (Sudipta Das)।
বাম ও তৃণমূল আমলের কেবল ‘শিলান্যাসের রাজনীতি’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল এই স্টেডিয়ামটি। বাম জমানায় তৎকালীন পরিবহনমন্ত্রী রঞ্জিত কুন্ডু প্রথমবার বীজপুর বিধানসভার এই জোনপুর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এরপর রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে এবং তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সাংসদ মুকুল রায় এসে ফের এই স্টেডিয়ামের দ্বিতীয়বার শিলান্যাস করেন।
কিন্তু বারবার শিলান্যাসের ফল যে শূন্য, তা প্রমাণ করে দীর্ঘ ২০ বছরের ইতিহাস। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গোটা স্টেডিয়াম চত্বর জরাজীর্ণ ও গভীর জঙ্গলে ঢেকে যায়। মাঠের করুণ দশার কারণে ফুটবলারদের জন্য একটি ভালো ড্রেসিং রুমটুকুও ছিল না। তা সত্ত্বেও স্থানীয় উদীয়মান খেলোয়াড়রা এই জঙ্গলঘেরা মাঠেই নিজেদের শারীরিক অনুশীলন ও চর্চা চালিয়ে গিয়েছেন।
অবশেষে আশার আলো, শুরু হল ড্রেসিং রুমের কাজ
দুই দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে এবার নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস জোনপুর স্টেডিয়ামকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব নিলেন। সম্প্রতি তিনি ওই মাঠে খেলোয়াড়দের জন্য ড্রেসিং রুমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এই প্রসঙ্গে হুংকার ছেড়ে বিধায়ক সুদীপ্ত দাস স্পষ্ট জানান, “বাম আমল ও তৃণমূল আমল কেবল প্রতিশ্রুতি ও শিলান্যাসের মাধ্যমেই পার হয়ে গেছে। কিন্তু কথা নয়, এবার বিজেপির আমলেই সম্পূর্ণভাবে তৈরি হবে এই জোনপুর স্টেডিয়াম।”
আগামী দিনে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
বিধায়ক জানিয়েছেন, আপাতত খেলোয়াড়দের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে ড্রেসিং রুম তৈরির কাজ দিয়েই এই মেগা প্রজেক্টের সূচনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সাংসদ তহবিলের (MP LAD) অর্থ এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে।
এই মাঠ থেকেই অতীতে সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়ের মতো কৃতি ফুটবলার উঠে এসেছিলেন বলে স্মরণ করেন বিধায়ক। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হলে আগামী দিনে এই জোনপুর মাঠ থেকেই দেশের ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করার মতো একাধিক তারকা খেলোয়াড় তৈরি হবে, যারা একদিন কলকাতার ময়দান দাপিয়ে বেড়াবে।