সাই পল্লবীর ‘সীতা’ রূপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দীপিকা চিখলিয়ার! নীতীশের ‘রামায়ণ’ নিয়ে কী বললেন আসল সীতা?

রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) এবং সাই পল্লবী (Sai Pallavi) জুটির বহুপ্রতীক্ষিত ছবি পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ (Ramayana) নিয়ে সিনেপ্রেমীদের উত্তেজনার শেষ নেই। ছবিটির শুটিং এবং কাস্টিং নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড়, ঠিক তখনই এই প্রজেক্ট নিয়ে মুখ খুললেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় রামানন্দ সাগরীয় ‘রামায়ণ’-এর কালজয়ী ‘সীতা’ অর্থাৎ বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দীপিকা চিখলিয়া (Dipika Chikhalia)। সাই পল্লবীর সীতা হওয়া এবং আজকের যুগের কাস্টিং নিয়ে তাঁর সোজাসাপ্টা মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সাই পল্লবীর লুক ও তুলসীদাসের ‘রামায়ণ’ প্রসঙ্গে দীপিকা
নতুন ছবিতে সাই পল্লবীকে সীতার চরিত্রে কাস্ট করা প্রসঙ্গে দীপিকা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সাই পল্লবী অত্যন্ত গুণী অভিনেত্রী। কিন্তু সীতা হিসেবে তাঁকে ঠিক কেমন দেখাবে, তা আমি এখনই বলতে পারছি না। সিনেমাটি মুক্তির পরেই তা পরিষ্কার হবে।”

এরপরই পৌরাণিক চরিত্র রূপায়ণের নান্দনিক দিক তুলে ধরে তিনি জানান, “তুলসীদাসের রামায়ণে সীতার রূপের এক বিশেষ বর্ণনা ছিল— আমন্ড বাদামের মতো চোখ, নির্দিষ্ট উচ্চতা, বিশেষ চুল এবং নির্দিষ্ট গায়ের রঙ। রামানন্দ সাগর মহাশয় সেই নিখুঁত রূপেরই সন্ধান করছিলেন এবং তিনি আমার মধ্যে তা দেখতে পেয়েছিলেন। ওঁরা সবাই ভালো অভিনেতা, চরিত্রটির সঙ্গে যদি তাঁরা মানানসই হন, তবে তা অবশ্যই খুব ভালো হবে।” তবে এখানেই না থেমে একটি মজার ও তীক্ষ্ণ মন্তব্যও করেন তিনি। দীপিকার সাফ কথা, “রামায়ণে কোথাও কোঁকড়ানো চুলের সীতার কথা উল্লেখ নেই।”

টাইপকাস্টিংয়ের অভিশাপ ও কাজের অভাবের আক্ষেপ
কথাপ্রসঙ্গে অভিনেত্রী নিজের পেশাগত জীবনের না বলা কিছু কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর আক্ষেপ, আজও তাঁকে দর্শকরা কেবল ‘সীতা’ হিসেবেই চেনেন।

দীপিকার কথায়, “আমাদের চেনা যায় আমাদের কাজের মাধ্যমেই। আমাকে সবাই সীতা হিসেবেই চেনেন। কখনও কখনও মানুষ আমার আসল নামও ভুলে যান, কেবল মনে রাখেন যে আমি সীতার চরিত্র করেছিলাম। ওটাই আমার মূল পরিচয় হয়ে গিয়েছে। কে-ই বা নিজের এমন পরিচিতি হারাতে চায়? তবে একজন অভিনেতা হিসেবে তো বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে সবারই থাকে। একই ছাঁচে বা গণ্ডির মধ্যে বন্দি থাকতে কেউ ভালোবাসে না।”

কাজের অভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই তিনি যোগ করেন, “আমি আশানুরূপ কাজ পাইনি। সত্যি বলতে, আমি এখনও মানুষের কাছে কাজের কথা বলি। আজ রণবীরের দিকে তাকান— ও ‘বরফি’, ‘সঞ্জু’ এবং ‘অ্যানিমাল’-এর মতো ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করেছে, আর এখন রামচন্দ্র হচ্ছে। এটাই আজকের যুগের আসল সৌন্দর্য। কিন্তু আমাদের সময়ে পরিস্থিতি এমন ছিল না। আমরা সবাই একই ধরনের চরিত্রে আটকে পড়তাম। আজও অন্য ধরনের চরিত্রে কাজ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন, কারণ দর্শকরা আমাকে সীতা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকায় দেখতেই অভ্যস্ত নন।”

পুরনো স্মৃতি ও নতুন ছবির প্রতি শুভকামনা
সমস্ত বিতর্ক ও আক্ষেপের মাঝেও নীতীশ তিওয়ারির নতুন ‘রামায়ণ’ টিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দীপিকা। তাঁর বিশ্বাস, নতুন এই ছবি বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলবে।

দীপিকার মন্তব্য, “ওঁরা সবাই অত্যন্ত গুণী শিল্পী। আমি নিশ্চিত, এটি এমন একটি ছবি হবে যা মানুষ হলে গিয়ে অন্তত একবার হলেও দেখতে চাইবেন।” তবে পুরনো স্মৃতির মাহাত্ম্য যে সহজে মুছে যাওয়ার নয়, তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি। অভিনেত্রীর মতে, “আমাদের পুরনো রামায়ণকে মানুষের মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। যদি এই সিনেমাটি আজ থেকে ৫০ বছর পর তৈরি হতো, তবে হয়তো মানুষ আমাদের পুরনো রূপ ও অভিনেতাদের কথা ভুলে যেতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই স্মৃতি আজও মানুষের মনে একদম তাজা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *