সোনমের ২৬ দিনের অনশন শেষ! কোন জাদুমন্ত্রে রাজি করাল কেন্দ্র? জানুন পর্দার পেছনের চাঞ্চল্যকর কাহিনী

টানা ২৬ দিন ধরে চলা ঐতিহাসিক অনশনের অবশেষে অবসান ঘটল। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী ডঃ জীতেন্দ্র সিংয়ের (Jitendra Singh) হাত থেকে তরল খাদ্য গ্রহণ করে তিনি তাঁর দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহার করেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনড় থাকা সোনম ওয়াংচুককে শেষ পর্যন্ত কীভাবে রাজি করাল সরকার? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল। অবশেষে সামনে এল পর্দার পেছনের চাঞ্চল্যকর সেই তথ্য।

গভীর রাতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ
সূত্রের খবর, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় এবং সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জরুরি বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং ডঃ জীতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই ম্যারাথন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সোনমের দাবিগুলিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ পেতেই নড়েচড়ে বসেন ডঃ জীতেন্দ্র সিং। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আঙ্গমোর সঙ্গে। সরকারের তরফে সদর্থক পদক্ষেপের জোরালো আশ্বাসের কথা জানিয়ে তিনি সোনমকে অনশন ভাঙানোর অনুরোধ জানান।

হাসপাতালে সরকারের লিখিত আশ্বাস এবং মেদান্ত ড্রামা
এরপরই গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে যান জেপি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং। সেখানে তাঁর হাতে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাসের চিঠি তুলে দেওয়া হয়। হাসপাতালেই সোনমকে জানানো হয় যে, আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের আজ, শুক্রবারই আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোনম ওয়াংচুকের মূল দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা। এর আগে বিক্ষোভকারী দলের নেতারা জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেছিলেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের হয় যন্তর মন্তরে এসে কথা বলতে হবে, কিংবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করতে হবে।

ক্যাবিনেটে নতুন বিল ও অন্যান্য শর্তে সম্মতি
সূত্রের মারফৎ আরও জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের তরফে সোনম ওয়াংচুককে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে—

নতুন বিল আনছে সরকার: ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর অধীনে একটি নতুন বিল আনা হবে এবং আজই ক্যাবিনেটে এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন মিলবে।

আইনি সুরক্ষা: বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অবশেষে সরকারের এই লিখিত আশ্বাস এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহিতা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই ২৬ দিনের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতি টানলেন সোনম ওয়াংচুক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *