হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগই কাল হল! মেয়াদ ফুরনোর আগেই কি পদত্যাগ করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

মেয়াদ শেষ হওয়ার এখনও প্রায় দু’বছর বাকি। কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের তীব্র সম্ভাবনা ও গুঞ্জনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পরেও, আওয়ামী লীগ আমলের এইমাত্র একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এতদিন পদে বহাল ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে ঘিরে অস্বস্তি ও জল্পনা চরমে পৌঁছেছে।
পদত্যাগের নেপথ্যে কোন কারণ?
রাজনৈতিক সূত্র এবং সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে টেলিফোনে গোপনীয় কথোপকথনও হয়েছে—এই খবর চাউর হতেই বর্তমান প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁকে নিয়ে আর কোনোভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না।
এর পাশাপাশি, আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাব্য ঘোষণা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এই জটিল সমীকরণের জেই তাঁর ওপর পদত্যাগের অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাংবিধানিক সমীকরণ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধা এবং নিম্ন আদালতের প্রাক্তন বিচারক মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাঁচ বছরের মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।