প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যে শোরগোল! পেটের দায়ে রাজপথে নামা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আসল দাবি কী?

রাজনৈতিক দলের নাম আবার ‘আরশোলা’ হয় নাকি! শুনতে অবাক লাগলেও বর্তমান দিল্লির রাজপথ কাঁপাচ্ছে ঠিক এই নামেই একটি প্রতিবাদী সংগঠন— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। অনেকেই এদের সঙ্গে চিন বা অন্য দেশের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করলেও, এই দলের জন্ম ও আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য এক বিস্ফোরক প্রেক্ষাপট।
কীভাবে এল এই ‘আরশোলার দল’?
কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের একপ্রকার কটাক্ষ করে ‘আরশোলা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “কিছু তরুণ আছে, যারা আরশোলার মতো। তারা কোনও পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না, তারপর তাদের মধ্যে কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ আরটিআই কর্মী হয়।” প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ক্ষুব্ধ তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ‘আরশোলা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে একত্রিত হতে শুরু করেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় প্রতীকী প্রতিবাদী দল— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। বর্তমানে দিল্লি পুলিশ যাদের আটকাতে কারেন্ট লাগানো ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের আশ্রয় নিচ্ছে।
কী দাবি এই ‘আরশোলাদের’?
সংগঠনটির মূল লড়াই কর্মসংস্থান এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতিকে উপড়ে ফেলা। তাদের প্রধান দাবিগুলি হল:
-
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারকে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
-
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
-
যুবসমাজকে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
-
সবচেয়ে বড় কথা, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এই আন্দোলনে ইতিমধ্যেই পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেছেন। পেপার ফাঁসের জেরে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়া তরুণ প্রজন্ম আজ জোটবদ্ধ হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে— আরশোলা হুট করে মরে না, একসঙ্গে জোট বাঁধলে তারা আস্ত একটা প্রাসাদও গুঁড়িয়ে দিতে পারে।