স্পিকারের সঙ্গে সোজা তর্কে কুণাল ঘোষ! উত্তাল বিধানসভায় চরম বিশৃঙ্খলা, সামাল দিতে আসরে নামলেন প্রবীণ মন্ত্রী!

বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও চরম উত্তপ্ত রইল রাজ্য বিধানসভা। গতকালের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন বিধানসভার অন্দরে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের বিধায়করাই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অধ্যক্ষের সঙ্গে কুণালের তুমুল তর্ক
এদিন বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে ক্রীড়া দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। অধিবেশন শুরু হতেই প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গতকালের বিধানসভার অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে কিছু বলার জন্য স্পিকারের অনুমতি চান। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ উঠতেই বেজায় চটে যান অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “গতকাল যা ঘটার ঘটে গিয়েছে, তা নিয়ে আর নতুন করে কিছু আলোচনা করতে চাই না। গতকাল যা ঘটেছে তা বিধানসভার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।” স্পিকারের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের আসন থেকে সোজা উঠে দাঁড়ান কুণাল ঘোষ। অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি তর্ক শুরু হয়ে যায়। কুণাল যুক্তি দেখান যে, নিজের স্বপক্ষে কথা বলার অধিকার সকলেরই রয়েছে এবং অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, একে ‘কলঙ্কজনক’ বলা চলে না।
রণক্ষেত্র বিধানসভার ওয়েল
এই বাকবিতণ্ডার মাঝেই স্পিকার কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ধাক্কাধাক্কি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন, যদিও কুণাল সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে নিজের আসন ছেড়ে সোজা বিধানসভার ওয়েলে নেমে আসেন কুণাল। তাঁকে ওয়েলে নামতে দেখে পিছিয়ে থাকেননি বিজেপি বিধায়করাও। তাঁরাও ওয়েলে নেমে পড়লে বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে কুণালের তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। বিধানসভার অন্দরে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
শোভনদেবের হস্তক্ষেপে স্বস্তি
চারিদিকে যখন তুমুল হট্টগোল চলছে, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেই আসরে নামেন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজে ওয়েলে নেমে কুণাল ঘোষকে শান্ত করেন এবং বুঝিয়ে তাঁকে নিজের আসনে ফিরিয়ে নিয়ে যান। তাঁর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে বড় ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হলেও, পরপর দুদিন ধরে বিধানসভায় কুণাল ঘোষকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।