প্রতি ম্যাচে ৪.৯ কোটি টাকা! হোম ম্যাচের টাইটেল স্পনসরশিপের দাম এক লাফে এতটা বাড়াল বিসিসিআই?

ভারতীয় ক্রিকেট দলের হোম ম্যাচগুলির টাইটেল স্পনসরশিপ এবং সহযোগী অংশীদার স্বত্বের জন্য সংরক্ষিত বা ভিত্তি মূল্য (বেস প্রাইস) ১৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। সংশ্লিষ্ট সূত্র মারফত জানা গেছে যে, বিসিসিআই টাইটেল স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে প্রতি ম্যাচের ভিত্তি মূল্য বাড়িয়ে ৪.৯ কোটি টাকা করেছে, যেখানে বর্তমান স্পনসর এর আগে প্রতি ম্যাচে ৪.২ কোটি টাকা দিত। পাশাপাশি, সহযোগী অংশীদার স্বত্বের ভিত্তি মূল্য প্রতি ম্যাচে ৮২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে সোজা ৯৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
আগামী ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চলমান এই নতুন টাইটেল স্পনসরশিপ চক্রে প্রায় ৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং কিছু অতিরিক্ত ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে শুধুমাত্র ভিত্তি মূল্যেই মোট চুক্তির পরিমাণ ১৬9.৮ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। তুলনা করলে দেখা যায়, পূর্ববর্তী চক্রে মোট ৫৬টি ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তৎকালীন টাইটেল স্পনসর ‘আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক’ এর জন্য মোট ২৩৫.২ কোটি টাকা প্রদান করেছিল। এছাড়া প্রতিটি সহযোগী অংশীদার স্লটের ভিত্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩.৩ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, পূর্ববর্তী চক্রে এসবিআই লাইফ, ক্যাম্পা কোলা এবং অ্যাটমবার্গ সহযোগী স্পনসর হিসেবে যুক্ত ছিল।
দরপত্র আহ্বান ও নিলাম প্রক্রিয়া
সম্প্রতি বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে টাইটেল স্পনসরশিপ এবং সহযোগী অংশীদার স্বত্ব—উভয়ের জন্যই আনুষ্ঠানিক দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে টাইটেল স্পনসরশিপের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ১৩ আগস্ট এবং সহযোগী অংশীদারদের জন্য নির্ধারিত শেষ দিনটি হলো ২৫ আগস্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদের টাইটেল স্পনসরশিপ চক্রটি অ্যাডিডাস বা অ্যাপোলো টায়ার্সের মতো বোর্ডের অন্যান্য বড় বাণিজ্যিক চুক্তির সঙ্গে ২০২৮ সালের মার্চে একসঙ্গে নবায়নের সুযোগ করে দেবে, যা বিসিসিআইয়ের মূল বাণিজ্যিক সম্পত্তিগুলোর বিক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও গুছিয়ে আনবে।
বর্তমান সময়ে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক উপযোগিতা এবং দর্শক টানার ক্ষমতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে যখন বিজ্ঞাপনদাতাদের একটি বড় অংশ ক্রমশ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের দিকে ঝুঁকছেন। একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিচার করলে বিসিসিআই কর্তৃক নির্ধারিত এই ভিত্তিমূল্যটি কিছুটা অতিরিক্ত চড়াই বটে।
জার্সির স্বত্ব ও বিশাল অঙ্কের চুক্তি
মিডিয়া প্ল্যানিং মহলের তথ্য অনুযায়ী, গতবার টাইটেল স্পনসরশিপের জন্য একমাত্র দরদাতা হিসেবে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকই লড়াইয়ে ছিল এবং সহযোগী অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতার পরিধি বেশ সীমিত ছিল। তবে বড় ব্র্যান্ডগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ যে কোনো স্পনসরশিপের বাজারদর বাড়িয়ে দেয়, যার বড় প্রমাণ ভারতীয় দলের জার্সির সামনের অংশের বিজ্ঞাপনের (ফ্রন্ট-অফ-জার্সি রাইটস) জন্য হওয়া তুমুল লড়াই।
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপোলো টায়ার্স রেকর্ড ৫৭১ কোটি রুপিতে এই হাই-প্রোফাইল চুক্তিটি নিজেদের কবজায় নিয়েছে, যেখানে আগের চক্রে ড্রিম১১ এর জন্য ৩৫৮ কোটি টাকা দিয়েছিল। এমনকি ক্যানভা ও জে কে সিমেন্টের মতো প্রভাবশালী সংস্থাদের পেছনে ফেলে অ্যাপোলো এই বাজিমাত করেছে। ডাব্লিউপিপি মিডিয়ার ‘স্পোর্টিং নেশন’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রীড়া স্পনসরশিপে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৭,৯৪২ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে সামগ্রিক স্পনসরশিপ বাজারে ক্রিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য ৮৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রক নানা চ্যালেঞ্জ ও কিছু কোম্পানির বাজার থেকে সরে দাঁড়ানো সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডগুলির ধারাবাহিক বিনিয়োগ এই বাজারকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।