শেখ হাসিনার দেশে ফেরার হুঙ্কারেই কি তড়িঘড়ি পদচ্যুতি? রাষ্ট্রপতিকে সরানোর নেপথ্যে কোন বড় রাজনৈতিক খেলা শুরু হলো?

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পরেই রাজনৈতিকভাবে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের জল্পনা জোরালো হতেই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে তারেক রহমানের সরকার, যার জেরে এবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে পদ থেকে সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে খবর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দেশ বন্তর’-এর সূত্রে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, রহমানের সরকার রাষ্ট্রপতিকে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান পদের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশ মেনে পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

হঠাৎ কেন রাষ্ট্রপতিকে সরানোর এই তোড়জোড়?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদত্যাগের নেপথ্যে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:

ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমীকরণ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নিজ দায়িত্বে নিয়োগ করেছিলেন। ফলে তাঁকে হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হয়। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবি উঠলেও, সাংবিধানিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সেসময় বিএনপি তার বিরোধিতা করেছিল এবং অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের আমলেও শাহাবুদ্দিনকে রক্ষা করেছিল।

আইনি কৌশলের আশঙ্কা: সরকারের তীব্র আশঙ্কা যে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে রাষ্ট্রপতি কোনো আইনি ফাঁকফোকর বা সাংবিধানিক কৌশলের আশ্রয় নিতে পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ দেশের রাজনৈতিক ময়দানে হাসিনা ও তাঁর দল এখনও যথেষ্ট প্রভাবশালী।

অসুস্থতার অস্ত্র: রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন সম্প্রতি লন্ডনে গিয়ে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতার কারণকেই মূলত সামনে এনে দ্রুত পদত্যাগ করার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শেষেই কি ফিরছেন হাসিনা?
গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ৭৯ বছর বয়সি শেখ হাসিনা। ঢাকা ছেড়ে তিনি সাময়িকভাবে দিল্লিতে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনে তারেক রহমানের দল জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

এহেন পরিস্থিতিতেই শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষেই দেশে ফিরে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা—‘আমার সংগ্রাম থামবে না’—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যদিও বর্তমানে হাসিনার বিরুদ্ধে ৬০০টিরও বেশি গুরুতর অভিযোগ এবং ১০টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রয়েছে, তবুও তাঁর এই সম্ভাব্য কামব্যাক বর্তমান সরকারকে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *