চোখ-মুখের মারাত্মক শুষ্কতাই ডেকে আনছে বড় বিপদ? জানুন বিশ্ব সোগ্রেনস দিবসের অজানা তথ্য!

প্রতি বছর ২৩ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব সোগ্রেনস দিবস (World Sjögren’s Day)। সোগ্রেনস সিন্ড্রোম (Sjögren’s syndrome) নামক একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এই দিনটি পালন করা হয়। এই রোগটি প্রায়শই বছরের পর বছর ধরে শনাক্ত করা যায় না, যা রোগীর জন্য মারাত্মক হতে পারে। এই রোগটি শরীরের আর্দ্রতা উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে মূলত চোখ ও মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তবে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা রোগ নির্ণয়কে বেশ কঠিন করে তোলে।
বিশ্ব সোগ্রেনস দিবস ২০২৬-এর থিম
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বিশ্ব সোগ্রেনস দিবসের থিম হলো— “Stronger With Sjögren’s: Thriving in the New Era”। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।
ইতিহাস ও তাৎপর্য
২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ব সোগ্রেনস দিবস পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৩ সালে এলাইন হ্যারিস (Elaine Harris) নামের এক নারী, যিনি নিজে এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন, সোগ্রেনস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত সচেতনতা, রোগ নির্ণয়, শিক্ষা এবং গবেষণা উন্নত করার জন্যই এই সংস্থা তৈরি হয়।
২৩ জুলাই তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণ হলো এটি বিখ্যাত সুইডিশ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. হেনরিক সোগ্রেনের (Dr Henrik Sjögren) জন্মদিন, যিনি ১৯৩৩ সালে প্রথম এই রোগটি সম্পর্কে বর্ণনা করেছিলেন।
সোগ্রেনস সিন্ড্রোম কী এবং কাদের বেশি হয়?
সোগ্রেনস সিন্ড্রোম একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত তার নিজের আর্দ্রতা উৎপাদনকারী গ্রন্থি আক্রমণ করে। এর ফলে অনেকের চোখ ও মুখ মারাত্মকভাবে শুষ্ক হয়ে যায়। এর পাশাপাশি ফুসফুস, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রের মতো অন্যান্য অঙ্গগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক রোগী ক্রমাগত ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা এবং পেশীতে ব্যথার শিকার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই রোগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আক্রান্ত হন। যদিও এর কোনো স্থায়ী প্রতিকার নেই, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা
সোগ্রেনস সিন্ড্রোমের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগ নির্ণয়ে দীর্ঘ বিলম্ব। কারণ এই রোগ নিশ্চিত করার জন্য কোনো একটি মাত্র পরীক্ষা নেই এবং এর লক্ষণগুলি অন্যান্য রোগের সঙ্গে মিলে যায়। চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, উপসর্গ এবং নিম্নলিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেন:
রক্ত পরীক্ষা: এসএস-এ (SS-A) এবং এসএস-বি (SS-B) অ্যান্টিবডি পরীক্ষা।
চোখের পরীক্ষা: টিয়ার উৎপাদন পরিমাপের জন্য শিমার পরীক্ষা (Schirmer test), এবং চোখের পৃষ্ঠে শুষ্ক জায়গা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ ডাই পরীক্ষা।
ডেন্টাল মূল্যায়ন: লালার প্রবাহ পরিমাপ করা।
স্যালাইভারি গ্ল্যান্ড বায়োপসি: রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে গ্রন্থি টিস্যু পরীক্ষা।
সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব, যা রোগীদের দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা পেতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।