“ক্ষত সারানোর কথা বলছেন, ঘা হচ্ছে কেন?” প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মোদীকে তুলোধোনা CJP নেতার!

দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়ছে তুঙ্গে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কঠোর পদক্ষেপ ও ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের হুশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে এই প্রতিক্রিয়াকেন্দ্রিক রাজনীতিকে তীব্র আক্রমণ করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছে যে সরকার সমস্যার মূলে না গিয়ে শুধুমাত্র দায়সারা গোছের প্রতিকারের কথা বলছে।

“ক্ষত হওয়ার পর ব্যান্ডেজ কেন?” — CJP-র বিস্ফোরক অভিযোগ
বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে CJP প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যতদিন না শিক্ষা ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের সরানো হচ্ছে, ততদিন এই সংকট চলতেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁস হওয়ার পরের শাস্তি নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু প্রশ্নফাঁস কেন হচ্ছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই কেন? উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরো সিস্টেম অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত লোকে ভরা, যার মাথায় বসে আছেন শিক্ষামন্ত্রী। এরা সংগঠিত মাফিয়ার মতো কারবার চালায়—টাকা নেয়, টাকা বানায় এবং সেই টাকায় সরকার চালায়। যতদিন না ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে, ততদিন এই সমস্যা মিটবে না।”

প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া বার্তা ও ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন
এর আগে, দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের আবহে প্রথমবার মুখ খুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জানান, যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা কাউকে রেয়াত করা হবে না।

তিনি লেখেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বিরোধীদের নিশানা: রাহুল গান্ধী ও জয়রাম রমেশ
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানায় বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ লেখেন, “আপনিই আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি নষ্ট করেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ দখল নিয়ে তা ধ্বংস করেছেন এবং এর জন্য দায়ী প্রত্যেককে রক্ষা করে চলেছেন।” পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে বরখাস্ত ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানান তিনি।

কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও সুর চড়িয়ে দাবি করেন, সংসদে সরাসরি বিতর্ক এড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেওয়াই প্রমাণ করে যে সরকার কোণঠাসা ও আতঙ্কিত।

রণক্ষেত্র রাজধানী দিল্লি
রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পাশাপাশি রাজধানীর রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। টলস্টয় মার্গ এবং জনপথ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিহার থেকে আসা এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে ANI-কে জানান, যতদিন যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলবে, ততদিন তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। বিক্ষোভের জেরে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *