“প্রশ্নের উত্তর কি লাঠি?” নিট আন্দোলন নিয়ে ফুঁসছেন দুলকার-নাসিরুদ্দিন থেকে তারকারা, মোক্ষম নিশানা কেন্দ্রের দিকে!

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার নানা অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দানা বাঁধা ছাত্র আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। রাজধানীর যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর দিল্লি পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো হয়েছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে একের পর এক তারকা এবার প্রকাশ্যে ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন দক্ষিণী ও বলিউড তারকা দুলকার সলমন। পড়ুয়াদের উপর চলা এই পুলিশি বলপ্রয়োগের দৃশ্যকে তিনি “হৃদয়বিদারক” বলে মন্তব্য করেছেন।
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দুলকার লেখেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটছে, তা আমাদের থেমে শোনা এবং একে অপরকে বোঝার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। শিক্ষা মানেই আশা, সুযোগ এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। অথচ সেই ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। তরুণ-তরুণীদের এমন অসহায় পরিস্থিতিতে দেখতে ভীষণ কষ্ট হয়। আরও বেশি ব্যথা লাগে যখন দেখি, কেউ কেউ সব আশা হারিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর অনেক অভিভাবক ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েও সন্তানদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।”
সংঘাতের পথ বাদ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে তিনি আরও লেখেন, “প্রতিটি মতের পিছনে একজন মানুষ রয়েছে, যার স্বপ্ন, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ আছে। তাই সংঘাত নয়, সহমর্মিতা ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। বোঝাপড়া ও মানবিকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভবিষ্যৎই সবচেয়ে শক্তিশালী।”
তারকাদের সরব প্রতিবাদ
দিল্লির এই ঘটনায় সরব হয়েছেন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরিও। ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর এই প্রতিবাদ কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিকের জায়গা থেকে। অদিতি লেখেন, “আমি প্রথমে একজন মানুষ। তাই এই হিংসা এবং উদাসীনতা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। বিপদে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অহিংসা, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ সংলাপের দাবি জানানো কোনও রাজনৈতিক দল বা এজেন্ডার বিষয় নয়, এটি একান্তভাবেই মানবিকতার পরিচয়।”
অন্যদিকে, প্রবীণ অভিনেতা রঘুবীর যাদব এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়ে পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের যেভাবে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, তা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। এই নিষ্ঠুরতার জন্য পৃথিবী কখনও ক্ষমা করবে না।” আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ওদের অপরাধটা কী ছিল? শেষে আন্দোলনরত ছাত্রদের উদ্দেশে আমার শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দু তোমাদের সঙ্গে আছে। তোমাদের সাহসই আগামী দিনের আশা।”
সঙ্গীত জগ থেকেও প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন গায়ক অনুব জৈন। মুম্বইয়ে ছাত্রদের সমর্থনে আয়োজিত সংহতি সমাবেশের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “আমার গানের মাধ্যমে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাঁদের সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই আমি সবসময় তাঁদের পাশেই থাকব।”
অভিনেতা-পরিচালক প্রদীপ রঙ্গনাথন এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে এক লাইনের শাণিত বার্তায় লেখেন, “প্রশ্নের উত্তর লাঠি দিয়ে দেওয়া যায় না।”
এর আগে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহও আন্দোলনরত ছাত্রদের সমর্থনে সরব হয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, বহু বলিউড তারকা নীরব থাকলেও একদিন তাঁদেরও মুখ খুলতে হবে। এক প্রবাদ টেনে তিনি বলেন, “মুখে হাড় নিয়ে থাকা কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। হাড়টা যখন পড়ে যাবে, তখনই সে ডাকবে।”
আন্দোলনের নেপথ্যে
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি-র নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় যখন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে দিল্লি পুলিশ তা আটকে দেয়। এরপরেই সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে, যা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি হলো—কথিত নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষায় দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দ্রুত কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা। শিক্ষাব্যবস্থার এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে তারকারাও যেভাবে ছাত্রদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাতে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।