কলকাতায় ফের করোনার থাবা! ৮ জনের শরীরে কোভিডের হদিশ মিলতেই চিকিৎসক মহলে অ্যালার্ট জারি

রাজধানী থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা উত্তেজনার মাঝেই এবার স্বাস্থ্যমহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস (COVID-19)। সম্প্রতি কলকাতায় নতুন করে ৮ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শহরের বুকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বাড়তেই ফের একবার শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখনই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে নিজেদের এবং পরিবারের প্রবীণ ও শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি (Covid Protocols) অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখতে মেনে চলুন এই ১০ জরুরি স্বাস্থ্যবিধি:
১. মাস্কের ব্যবহার: লোকাল ট্রেন, বাস, মেট্রো কিংবা শপিং মলের মতো ভিড়যুক্ত ও জনবহুল স্থানে যাতায়াত করার সময় অবশ্যই ভালো মানের এন-৯৫ (N-95) অথবা সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. হাত পরিষ্কার রাখা: বাইরে থেকে ঘরে ফিরে কিংবা যেকোনো পাবলিক সারফেস স্পর্শ করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও জল দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। কাছে সাবান বা জল না থাকলে অবশ্যই অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

৩. সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা: অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে জনবহুল ভিড় এড়িয়ে চলুন। যেকোনো উন্মুক্ত বা সাধারণ স্থানে অন্য যেকোনো ব্যক্তির থেকে অন্তত ৩ থেকে ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

৪. মুখ ও নাক স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন: না ধোয়া নোংরা হাত দিয়ে বারবার চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ ভাইরাসের শরীরে প্রবেশের অন্যতম সহজ রাস্তা হলো এই পথটিই।

৫. হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় সবসময় রুমাল, টিস্যু পেপার কিংবা কনুইয়ের সাহায্যে নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন। ব্যবহৃত টিস্যু সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা দেওয়া ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

৬. উপসর্গ দেখা দিলে আইসোলেশন: জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা বা শরীর ব্যথার মতো কোভিডের মৃদু উপসর্গ দেখা দিলেই নিজেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের থেকে আলাদা (Isolate) রাখুন এবং দ্রুত কোভিড টেস্ট করান।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান: শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, তাজা সবুজ শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও তরল পান করুন।

৮. বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: সবসময় এসি বা বদ্ধ ঘরে না থেকে ঘরের জানলা-দরজা খোলা রাখুন, যাতে ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে।

৯. টিকাকরণ সম্পূর্ণ করুন: আপনি বা আপনার পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা যদি এখনও কোভিডের প্রিকশন বা বুস্টার ডোজ না নিয়ে থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা দ্রুত সম্পন্ন করে নিন।

১০. স্বয়ংচিকিৎসা থেকে বিরত থাকুন: নিজে থেকে কোনো মনগড়া ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে, শরীরে উপসর্গ বাড়লেই অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসক বা কোনো রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *