‘প্রয়োজন হলে আমি নিজে যাব!’ নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সিজেপি-র বিক্ষোভে মমতার বড় হুংকার

মাত্র চার মাস আগেও যে রাজনৈতিক দলের কোনও অস্তিত্ব ছিল না, সেই ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) বিক্ষোভের জেরে বর্তমানে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। আর এই আন্দোলন ঘিরেই এখন দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার জল্পনা জোরালো হয়েছে যে, এই আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে সামিল হতে আগামী দিনে দিল্লি যেতে পারেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

২১ জুলাইয়ের পরেই দিল্লির পথে মমতা?

সূত্রের খবর, আগামী দিন সাতেকের মধ্যেই ককরোচ পার্টির এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে দিল্লি পৌঁছাতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মূলত একুশে জুলাইয়ের শহীদ স্মরণ সভার ব্যস্ততার কারণেই এতদিন তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি এই বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেননি। তবে একুশের অনুষ্ঠান মিটতেই এবার জাতীয় স্তরের এই ছাত্র আন্দোলনে সুর চড়াতে তৎপর হয়েছেন বাংলার নেতৃত্ব।

গতকালের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, প্রয়োজন পড়লে তিনি নিজে সিজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিজেপি-র বিক্ষোভে যোগ দেব। আমরা ইতিমধ্যেই তাদের সমর্থন করেছি, ভবিষ্যতেও এই আন্দোলনকে সবরকম সাহায্য করে যাব।”

কী নিয়ে উত্তাল যন্তর-মন্তর?

গত ৬ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লাগাতার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। তাদের প্রধান অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • NEET ২০২৬ প্রশ্নফাঁস কাণ্ড

  • সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল বিভ্রাট

  • সিইউইটি (CUET) পরীক্ষায় চরম বিলম্ব

সংগঠনের স্পষ্ট দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই গুরুতর ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এই আন্দোলনের আঁচ এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

মোদীর বাসভবনের বাইরে উত্তপ্ত প্রতিবাদ ও রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটকের ঘটনা

এদিকে, সিজেপি-র আন্দোলনকে আগেই সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। গত মঙ্গলবার ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও ওয়াটার ক্যানন ব্যবহারের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন পর্যন্ত এক বিরাট প্রতিবাদ মিছিল করে কংগ্রেস।

সেই বিক্ষোভে অংশ নেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা, সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখানোর সময় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল গান্ধী লেখেন, সরকার একদিন আগে ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, অথচ ঘটনার দায় নিতে বা সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করতে সম্পূর্ণ নারাজ। এমতাবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন এবং তাতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের যোগদানের সম্ভাবনায় জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *