১৪৪ টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ২০০টি করার প্রক্রিয়া, ভাঙছে জাভেদ, ফিরহাদ ও সন্দীপনের ওয়ার্ড

কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। শহরের বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে তা ২০০টিতে উন্নীত করার বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে যে সমস্ত ওয়ার্ডে ভোটারের চাপ বা সংখ্যা প্রচুর বেশি, সেগুলিকে একাধিক ভাগে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে, যে সমস্ত ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত কম, সেগুলি একত্রিত করে একটি নতুন ওয়ার্ড গঠনের প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে সবুজ সঙ্কেত মিললেই কলকাতার বহু দশকের পুরোনো ওয়ার্ড বিন্যাসে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসবে।

জাভেদ, ফিরহাদ ও সন্দীপনের বড় ওয়ার্ডগুলি ভাঙছে:

  • ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড (তপসিয়া-তিলজলা): বর্তমানে কলকাতার সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে এই ওয়ার্ডে, যার সংখ্যা ৮৪ হাজারের বেশি। প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের এই ওয়ার্ডটিকে ভেঙে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।

  • ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড (এন্টালি): এন্টালি বিধানসভার এই ওয়ার্ডটি থেকে একসময় বর্তমান বিধায়ক সন্দীপন সাহা কাউন্সিলর ছিলেন। এখানকার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। এই বড় ওয়ার্ডটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

  • ৮২ নম্বর ওয়ার্ড (ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ড): কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এই ওয়ার্ডটি দু’ভাগে ভাগ করা হচ্ছে।

  • ১১৮ নম্বর ওয়ার্ড (তারক সিংয়ের ওয়ার্ড): প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের এই ওয়ার্ডটিও ভেঙে দু’টুকরো করা হচ্ছে।

  • ১১ নম্বর ওয়ার্ড (অতীন ঘোষের ওয়ার্ড): প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের এই ওয়ার্ডে নতুন কিছু এলাকা ও ভোটার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লুপ্ত হচ্ছে মীনাদেবী, বিজয় ও সন্তোষ পাঠকের ওয়ার্ড:

উত্তর কলকাতায় তুলনামূলকভাবে ভোটার সংখ্যা খুব কম থাকায় একাধিক ওয়ার্ডকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বিজেপির প্রবীণ নেত্রী ও প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মীনাদেবী পুরোহিতের ২২ নম্বর ওয়ার্ড (ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার) এবং বিজয় ওঝার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড (ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার) একত্রিত করে একটি নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হবে।

  • অন্যদিকে, প্রাক্তন কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড—যেখানে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৬ হাজারের কাছাকাছি—সেটিও অন্য একটি ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অপরিবর্তিত থাকছে মালা রায় ও মমতার ওয়ার্ড:

শহরের সমস্ত ওয়ার্ডে অবশ্য হাত দেওয়া হচ্ছে না। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড যেমন রয়েছে তেমনই রাখা হচ্ছে:

  • দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর এবং বর্তমান সাংসদ মালা রায়ের ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

  • একইভাবে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হোম ওয়ার্ড’ হিসেবে পরিচিত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানাও সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

ভবানীপুর, যাদবপুর ও অন্যান্য এলাকায় রদবদল:

  • ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটার রয়েছেন, এটিকে দু’ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৭১ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা কমিয়েও পুনর্বিন্যাস করা হবে।

  • পার্কস্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি নিয়ে গঠিত ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

  • এছাড়া যাদবপুরের ৯৬ ও ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডকেও ভেঙে দু’ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার বহু ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম, অথচ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের চাপ মাত্রাতিরিক্ত বেশি। তাই বিভিন্ন ওয়ার্ডের আয়তন ও ভোটারের সংখ্যার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে কলকাতার প্রশাসনিক কাজ আরও অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হবে বলেই মনে করছেন পুরকর্তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *