স্ত্রী, দুই মেয়েকে খুন করে আত্মহত্যা স্বামীর, সুইসাইড নোটে লেখা ‘শেষ ইচ্ছে’

কর্নাটকের মাইসুরু জেলার হুনসুর শহরে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো অনুমান, এক ব্যক্তি প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। বুধবার নিউ মারুতি লেআউট এলাকার একটি বাড়ি থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসে।
ঠিক কী ঘটেছিল বাড়িতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম হরিশ (৪৯)। তাঁর স্ত্রী নিশ্চিতা (৩৬) এবং তাঁদের দুই কন্যাসন্তান নেক্সা (১৩) ও রক্ষা (৬)-র নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, হরিশ প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের মুখ আঠালো টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাঁদের খুন করেন। এরপর তিনি নিজের বাড়ির প্রথম তলার একটি ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, বাইরে থেকে এই পরিবারটিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হাসিখুশি বলেই মনে হতো। তাই হঠাৎ করে এমন একটি নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানতে পেরে তাঁরাও গভীর বিমূঢ় ও হতবাক হয়ে পড়েছেন।
উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোট
তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নোটের ঠিক শুরুতেই লেখা ছিল, “আমি উপরের ঘরে ঝুলছি।” এর ঠিক নিচেই ‘My Last Wishes’ বা ‘আমার শেষ ইচ্ছে’ শিরোনামে কয়েকটি ইচ্ছার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সেই ইচ্ছাগুলির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
হরিশ ঠিক কোন কারণে এমন চরম ও ভয়াবহ পথ বেছে নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পারিবারিক অশান্তি, গভীর আর্থিক সংকট নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হুনসুর টাউন থানার পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চারটি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।