গণতন্ত্র না কি পুলিশতন্ত্র? দিল্লিতে ছাত্রদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল যন্তর মন্তর ও শাস্ত্রী ভবন এলাকা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বললেন মমতা?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লেখেন, “আজ দিল্লিতে আমাদের যুবক ও ছাত্রদের ওপর পুলিশের বর্বরতার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এটা কেমন সরকার যারা নিজেদের ছাত্রদেরই ভয় পায়?” তিনি আরও যোগ করেন, “ভিন্নমত প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়। আলোচনার পরিবর্তে লাঠি আর কাঁদানে গ্যাস দিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়া গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না।” আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহসের প্রশংসা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, তিনি প্রতিটি মুহূর্তে এই তরুণ প্রজন্মের পাশে রয়েছেন।
দিল্লিতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
-
পুলিশের পদক্ষেপ: সোমবার সিজেপি সমর্থকরা সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দেয়। শাস্ত্রী ভবনের কাছে আন্দোলনকারীদের হঠাতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়।
-
বিশৃঙ্খলা: বিক্ষোভের জেরে মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। বহু মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে ১৭ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
-
কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাঁদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে, নিট বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিট বিতর্ক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ঘিরে দেশজুড়ে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তা আজ চরম আকার ধারণ করে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর আক্রমণ আরও ধারালো হচ্ছে। একদিকে যখন ছাত্ররা নির্ভীকভাবে রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।