রসুনের গুণে কি সত্যিই ক্যান্সার হার মানবে? চিকিৎসকের পরামর্শে জানুন আসল সত্য

ক্যান্সার প্রতিরোধে ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর ভরসা রাখেন অনেকেই। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে বা নিয়মিত এক কোয়া রসুন খাওয়া। প্রশ্ন ওঠে, রসুন কি আসলেই ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা বলা হয়েছে বিশিষ্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনীশ সাহনির সঙ্গে।

বিশেষজ্ঞের সাফ কথা: ক্যান্সার নিরাময়ে রসুন কোনো ওষুধ নয়

কৈলাশ দীপক হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনীশ সাহনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “রসুন ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। এখন পর্যন্ত কোনো মানব গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি যে রসুন নিজে থেকেই ক্যান্সার-বিরোধী কোনো চিকিৎসা বা ঔষধ হিসেবে কাজ করে।”

তবে গবেষণার খাতিরে তিনি কিছু সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন:

  • ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত (সপ্তাহে ৫-১০ গ্রাম বা তার বেশি) রসুন খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলী, কোলন ও মলদ্বারের ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি ক্যান্সারের চিকিৎসা নয়, বরং একটি খাদ্যতালিকাগত অভ্যাস মাত্র।

রসুনের গুণাগুণ: শরীর ভালো রাখে যেভাবে

রসুনকে ‘সুপারফুড’ বলা হয় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য। এতে রয়েছে অ্যালিসিন, ভিটামিন বি এবং সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হলো:

  • রোগ প্রতিরোধ: রসুনের অ্যালিসিন উপাদান ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করে সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ রোধ করে।

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রসুনে থাকা উপাদান শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তনালীকে শিথিল করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

  • কোলেস্টেরল হ্রাস: নিয়মিত রসুন খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে।

  • অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিকেলের হাত থেকে কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

সতর্কবার্তা

ডা. সাহনির মতে, রসুন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, তবে একে ক্যান্সারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা বিপজ্জনক। কোনো রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধে সুষম ডায়েট এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *