হয় অনশন, নয় মৃত্যু: সোনাম ওয়াংচুকের লড়াইয়ে কেন ফিরে আসছে তাঁর বাবা সোনাম ওয়াংগিয়ালের ইতিহাস?

যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিনের আমরণ অনশন। শেষমেশ শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় দিল্লি পুলিশ সোনাম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গেল সফদরজং হাসপাতালে। এই ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়। সমর্থকদের দাবি, কণ্ঠরোধ করতে এই ‘জোরপূর্বক’ পদক্ষেপ। পুলিশের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু এই পরিস্থিতির মাঝেই ৪২ বছর আগের এক ঐতিহাসিক স্মৃতির পাতা উল্টে গেল লাদাখ থেকে দিল্লি পর্যন্ত। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অনশনই সোনাম ওয়াংচুকদের রক্তে মিশে থাকা অস্ত্র?
কে এই সোনাম ওয়াংগিয়াল? সোনাম ওয়াংচুকের লড়াইয়ের ইতিহাস বুঝতে হলে জানতে হবে তাঁর বাবা সোনাম ওয়াংগিয়ালের কথা। ১৯২৩ সালে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া সোনাম ওয়াংগিয়াল ছিলেন এক লড়াকু মানুষ। ১৯৬৫ সালে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে বিশ্বমঞ্চে লাদাখকে পরিচিত করে তুলেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
৪২ বছর আগের সেই অনশন: ১৯৮৪ সাল। লাদাখের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলিকে ‘তফসিলি উপজাতি’ (ST) হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে গর্জে ওঠেন সোনাম ওয়াংগিয়াল। তিনি অনশন শুরু করলে লাদাখের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পর্যন্ত লাদাখের দাবির দিকে নজর দিতে হয়েছিল। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে দাবি পূরণ হয়নি, কিন্তু পাঁচ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৯৮৯ সালে কেন্দ্র সরকার লাদাখের বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে সেই সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। সোনাম ওয়াংগিয়ালের সেই লড়াই আজও লাদাখের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
বাবা ও ছেলের মিল: আজ সোনাম ওয়াংচুকও ঠিক একই ভাবে অনশনকে হাতিয়ার করে লাদাখের মানুষের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে লড়ছেন। ইস্যু আলাদা হতে পারে, কিন্তু লড়াইয়ের পদ্ধতি ও দৃঢ়তা যেন বাবারই প্রতিচ্ছবি। যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও ওয়াংচুকের জেদ কি বজায় থাকবে, নাকি ইতিহাস আবার পুনরাবৃত্তি হবে? সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।