“দইয়ের পর এবার আইসক্রিম!”-বাংলায় বড় বিনিয়োগের আবদার শুভেন্দুর, টার্গেট উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ

রাজ্যে শিল্পায়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন। শনিবার হাওড়ার সাঁকরাইলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আমূলের নতুন দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র হতে চলেছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। এই অনুষ্ঠানেই রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমূল কর্তৃপক্ষকে রাজ্যে আরও দুটি আইসক্রিম কারখানা স্থাপনের জোরালো আর্জি জানিয়েছেন।
আইসক্রিমের হাত ধরে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দই হয়েছে, এবার আইসক্রিমও আসুক।” তিনি অমিত শাহের উপস্থিতিতে আমূলকে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে একটি করে অত্যাধুনিক আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার অনুরোধ জানান। শুভেন্দুর মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুগ্ধচাষিরা যেমন দুধের ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনই পরিবহণ, প্যাকেজিং ও বিপণন ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে আমূলের মাধ্যমে বাটার-সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যও পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদনের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
জমি নিয়ে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী এদিন পুরনো প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরণের প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারকে চিঠি দিলেও তৎকালীন সরকার তাতে গুরুত্ব দেয়নি। তবে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমূলের নতুন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ একর করে জমির ব্যবস্থা সরকারই করে দেবে।”
রাজনীতি ও অর্থনীতির মেলবন্ধন রাজ্যের গত দুই সরকারের শাসনকাল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “একসময় বলা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাত হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আজ বাস্তব এই যে, গুজরাতের সমবায় সংস্থা আমূল রাজ্যে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।” তাঁর দাবি, আমূলের মতো সংস্থার উপস্থিতি রাজ্যের রাজস্ব আয় ও জিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমবায় মডেলের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, সমবায় আন্দোলনই গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে এই মডেলই সবচেয়ে কার্যকর।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিশ্ব বাংলা সম্মেলনে আমূলের এমডি জে মেহতা এই বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি আজ বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। শিল্প মহলের মতে, সাঁকরাইলের এই প্রকল্পটি শুধু আমূলের সাফল্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধশিল্পের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই কারখানা চালুর ফলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দই এখন জাতীয় বাজারে এক নতুন পরিচিতি পাবে।