পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ! ন্যায়বিচার চেয়ে এসপির দ্বারস্থ তরুণী

বিহারের জামুই জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এক তরুণী অভিযোগ তুলেছেন, চন্দ্রদীপ থানায় কর্মরত এক সাব-ইন্সপেক্টর তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং পরবর্তীতে জাতপাতের অজুহাত দিয়ে তাঁকে অস্বীকার করছেন। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ফেসবুক থেকে প্রেমের শুরু
অভিযোগকারিণীর বাড়ি মুঙ্গের জেলায়। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে চন্দ্রদীপ থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর কুন্দন কৃষ্ণের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রণয় এবং অবশেষে চলতি বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি মুঙ্গেরের চণ্ডিকা স্থান মন্দিরে তাঁরা হিন্দু রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে তরুণীর দাবি।
অভিযোগের ফিরিস্তি
ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী:
শারীরিক সম্পর্ক: বিয়ের পর থেকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে মুঙ্গের ও বেগুসরাইয়ের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
ঘর বাঁধার প্রতিশ্রুতি: বারবার একসঙ্গে থাকার কথা বলা সত্ত্বেও কুন্দন কৃষ্ণ তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী আশ্রয়ের মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
জাতপাতের অজুহাত ও হুমকি: সাব-ইন্সপেক্টর জামুইয়ের চন্দ্রদীপ থানায় বদলি হওয়ার পর তরুণী সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, সেই সময় ওই কর্মকর্তা জাতপাতের দোহাই দিয়ে তরুণীকে দূরে সরিয়ে দেন এবং সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তরুণী প্রতিবাদ করলে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে অভদ্র আচরণ, হুমকি এবং সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
অভিযুক্তের বয়ান
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কুন্দন কৃষ্ণ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে ওই তরুণীর সাথে তাঁর বিয়ে হয়নি। তিনি বর্তমানে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্তের অপেক্ষায় জামুই পুলিশ
বিষয়টি নিয়ে জামুই পুলিশ সুপারের দপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তরুণীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুরো ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সত্য কি না, এবং এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা জানতে ফরেনসিক তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগে এখন জামুইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।