সলমনের পর এবার আমির খান? লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানকে নিয়ে বর্তমানে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে আমির খানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তৃতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর থেকেই অভিনেতাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও হুমকি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দুই সদস্যের নাম করে আমির খানকে উদ্দেশ্য করে অডিও ও পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। ওই অডিও এবং পোস্টে সরাসরি ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আমির খান নিজের তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে সনাতন সংস্কৃতির পরিপন্থী কাজ করছেন। গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যারা এই ধরনের আচরণকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের তারা ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে। যদিও এই অডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সত্যতা কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিবাদের মূলে তৃতীয় বিয়ে?

আমির খানের তৃতীয় বিবাহ নিয়ে নেটদুনিয়ার একটি বড় অংশ সরব হয়েছে। আমির নিজে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও, তাঁর কোনো স্ত্রীই ধর্মান্তরিত হননি—এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। নেটিজেনদের একাংশ আমিরের এই বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’-এর সাথে তুলনা করে তাঁকে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এই হুমকির পিছনেও সেই ধর্মীয় আক্রোশই প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আমিরের জবাব:

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্ক ও বিদ্রুপের মুখে নীরব থাকেননি আমির খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত পরিপক্কতার সঙ্গে খণ্ডন করেছেন। অভিনেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারে আন্তঃধর্মীয় বিবাহের ইতিহাস অনেক পুরনো এবং কোনো ক্ষেত্রেই ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, রিনা দত্ত, কিরণ রাও বা বর্তমান স্ত্রী গৌরী—কেউই বিয়ের পর নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেননি। এমনকি গৌরী হিন্দুও নন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

আমিরের নিরাপত্তা নিয়ে এই মুহূর্তে বি-টাউনে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সলমন খানের পর আমির খানের ওপর এই হুমকির ঘটনা বলিউড তারকাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *