দু’দিনের উৎকণ্ঠার অবসান! ঘরে ফিরল নিখোঁজ প্রতিভাবান শ্যুটার দময়ন্তী, কারণ জানালেন বাবা

দু’দিনের দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ শেষে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দময়ন্তী সেনের পরিবার। হাওড়ার নিখোঁজ প্রতিভাবান শ্যুটার তরুণী দময়ন্তী অবশেষে বাড়ি ফিরে এসেছে। শুক্রবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ি ফিরে দময়ন্তী নিজেই নিজের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যের কাহিনী শুনিয়ে অবাক করেছে সবাইকে।

কেন বাড়ি ছেড়েছিল দময়ন্তী?
তরুণীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। পড়াশোনার চাপ ও স্কুলে উপস্থিতির হার কমে যাওয়ায় ক্রমাগত ‘গার্জেন কল’ হচ্ছিল, যা মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। খেলাধুলার প্রতি প্রচণ্ড জেদ ও ঝোঁক রয়েছে দময়ন্তীর। ধ্রুবজ্যোতিবাবুর কথায়, “ও জেদ ধরেছে যে ও শ্যুটিংই করবে। পড়াশোনার চাপের কারণেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল।”

কী অভিজ্ঞতা হলো নিখোঁজ তরুণীর?
বাড়ি ফিরে দময়ন্তী যা জানিয়েছে, তা বেশ চমকপ্রদ। ধ্রুবজ্যোতিবাবু জানান, মেয়ে বলেছে, “আমি সারারাত ঘুমাইনি। সারারাত শুধু হেঁটেছি। যেহেতু আমি খেলাধুলো করি, তাই আমার স্ট্যামিনা বা ফিটনেসের জন্য আমাকে হাঁটতেই হতো।” দময়ন্তী আরও জানায়, পথে কোনো এক অজানা নারীর দেওয়া খাবার খেয়েই সে বেঁচে ছিল এবং কোনো অসাধু ব্যক্তি তাকে উত্ত্যক্ত করেনি। শ্রীরামপুর থেকে সে নিজেই হাওড়ামুখী হয়েছিল বলে জানান বাবা।

পুলিশের প্রশংসায় পরিবার
মেয়ের সন্ধানে রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় কৃতজ্ঞ দময়ন্তীর বাবা। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট দিচ্ছিল। মেয়ে শ্রীরামপুরে কোথায় যাচ্ছে, কখন টোটো নিচ্ছে—সবই পুলিশ আমাদের জানাচ্ছিল। এই তথ্যের কারণেই নিশ্চিত ছিলাম যে মেয়ে বিপদে নেই।”

পুলিশ কী বলছে?
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) তৌসিফ আলি আজহার জানান, পড়াশোনা সংক্রান্ত পারিবারিক ইস্যু থেকেই তরুণী ঘর ছেড়েছিল। তিনি বলেন, “ময়ন্তী ফিরে এসেছে, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি। সে কোথায় কোথায় ছিল, সেই বিষয়টি আমরা ভেরিফাই করছি। আপাতত সে মা-বাবার সঙ্গেই সুস্থ অবস্থায় আছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *