“মার্কিন হামলায় ভেঙে পড়ল …?”-সঙ্কটে ভারতের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ?

ইরানের চাবাহার বন্দরে মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৮ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তিন দফা বিমান হামলায় শুধু টাওয়ারই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরের একাধিক জেটিও। ভারতের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ‘শহিদ বেহেশতি’ ডক ও টার্মিনালেও হামলার প্রভাব পড়ায় ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী এই টাওয়ারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে গোটা এলাকায় নৌ-চলাচল ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মার্কিন হামলার জেরে চাবাহারের প্রায় অর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই সামরিক পদক্ষেপ বন্দরের বর্তমান কার্যকারিতাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।

ভারতের বিনিয়োগ ও গুরুত্ব চাবাহার বন্দর ভারতের বিদেশ নীতির এক অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যেই ভারত এখানে কয়েক বছর ধরে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করেছে।

  • বিনিয়োগ: ভারত এখানে প্রায় ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন রুপি) বিনিয়োগ করেছে।

  • চুক্তি: ২০২৪ সালের মে মাসে ভারত ও ইরানের মধ্যে ১০ বছরের একটি পরিচালন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল।

  • দায়িত্ব: ভারতীয় সংস্থা ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’ (IPGL) ২০১৮ সাল থেকে এই বন্দরের আধুনিকীকরণ ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করছে।

ভারতের কৌশলী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী? এই বন্দরটি ভারত, ইরান, রাশিয়া ও মধ্য এশীয় দেশগুলোকে সংযুক্তকারী ৭,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ (INSTC)-এর মেরুদণ্ড। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এই সামরিক আক্রমণ ভারতের এই করিডোর তৈরির স্বপ্নকে এক বড় ধাক্কা দিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম ধ্বংস হওয়ায় বন্দরের বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই এলাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। যদিও ভারত সরকার এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সাথে কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে।

ঝুঁকির মুখে কি বিনিয়োগ? ভারতের বিনিয়োগ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে বলা না গেলেও, বর্তমান পরিস্থিতি প্রকল্পটির গতিকে দীর্ঘমেয়াদে ধীর করে দিল। আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠানো এবং ভারতের বাণিজ্য সংযোগ স্থাপনের এই পথটি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে। সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার এই বেড়াজালে চাবাহার প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া এখন ভারতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *