গুপ্ত নবরাত্রিতে অলৌকিক সমাগম! নয়না দেবী মন্দিরে কেন গোপনে তন্ত্র সাধনা করতেন ঋষিরা?

আষাঢ় মাসের পবিত্র দিনগুলিতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গুপ্ত নবরাত্রি। আর এই উপলক্ষ্যে বিশ্ববিখ্যাত শক্তিপীঠ শ্রী নয়না দেবী মন্দিরে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পুণ্যার্থী মায়ের দরবারে হাজির হচ্ছেন। পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে ভক্তরা মন্দির চত্বরে বিশেষ যজ্ঞ ও হবনে অংশগ্রহণ করছেন।
বছরের চারটি নবরাত্রি ও গুপ্ত নবরাত্রির রহস্য
শ্রী নয়না দেবী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নীলম শর্মা এই বিশেষ তিথির ধর্মীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মে সারা বছর ধরে মোট চারটি নবরাত্রি পালিত হয়। এর মধ্যে চৈত্র ও শারদীয় নবরাত্রি সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও, আষাঢ় ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষে আরও দুটি নবরাত্রি পড়ে, যেগুলিকে ‘গুপ্ত নবরাত্রি’ বলা হয়। আধ্যাত্মিক ও তান্ত্রিক সাধনার ক্ষেত্রে এই দুটি গুপ্ত নবরাত্রির বিশেষ ও অলৌকিক তাৎপর্য রয়েছে।
কেন একে ‘গুপ্ত’ নবরাত্রি বলা হয়?
প্রধান পুরোহিত আরও জানান, প্রাচীনকালে ঋষি, মুনি এবং সাধু-সন্তরা তাঁদের উচ্চতর আধ্যাত্মিক সাধনা, কঠোর উপাসনা এবং বিশেষ তান্ত্রিক সিদ্ধি লাভের জন্য এই আষাঢ় ও মাঘ মাসের নবরাত্রির দিনগুলিকে সাধারণ মানুষের থেকে সম্পূর্ণ গোপন বা গুপ্ত রাখতেন। নির্জনে সিদ্ধি লাভ করাই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। তবে কালক্রমে এই বিশেষ তিথির মাহাত্ম্য সাধারণ মানুষের কাছেও প্রকাশ পায়। বর্তমান দিনে সাধারণ গৃহস্থ ও ভক্তরাও এই সময় দেবী ভগবতীর বিশেষ পূজা নিবেদন করেন।
মনোবাঞ্ছা পূরণের মহাশক্তিপীঠ
প্রবীণ পুরোহিতদের মতে, গুপ্ত নবরাত্রির এই দিনগুলিতে মা শ্রী নয়না দেবীর মন্দিরে বিশেষ মহাপূজা, দুর্গা সপ্তশতী পাঠ এবং বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা মন্দির চত্বরে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ও ঐতিহাসিক যজ্ঞকুণ্ডে আহুতি প্রদান করে মাতৃদেবীর আশীর্বাদ লাভ করেন।
লোকবিশ্বাস এবং ভক্তদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই গুপ্ত নবরাত্রির পবিত্র তিথিতে যে বা যাঁরা শ্রী নয়না দেবীর দর্শন ও শুদ্ধ মনে পূজা করেন, মায়ের কৃপায় তাঁদের সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। জীবন থেকে দূর হয় সমস্ত বাধা-বিপত্তি এবং পরিবারে নেমে আসে সুখ ও অপার সমৃদ্ধি। এই অটুট বিশ্বাস নিয়েই প্রতিদিন লক্ষাধিক ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে নয়না দেবীর দরবার।