হাওয়াইতে ল্যান্ড করতেই বসের ফোন, ১ মিনিটে সব শেষ! ছুটির প্রথম দিনেই যুবকের পরিণতি দেখে কাঁপছে নেটপাড়া!

ভাবুন তো, পরিবারের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটানোর জন্য আপনি মাসের পর মাস ধরে পরিকল্পনা করেছেন, নিজের কষ্টার্জিত টাকা জমিয়েছেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর ঠিক প্রথম সকালেই যদি জানতে পারেন আপনার চাকরিটি আর নেই? শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও, বাস্তবে এমনই এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হয়েছেন এক দম্পতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই কান্নার ভিডিওটি প্রকাশ পেতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ১৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন এবং কোম্পানির এই অসংবেদনশীল আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
প্রথম দিনেই বিরাট ধাক্কা!
ভাইরাল ভিডিওটিতে এক নারীকে অশ্রুসিক্ত চোখে একটি সুন্দর রিসোর্টের ব্যাকগ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সুইমস্যুট পরিহিত ওই নারী জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী দুজনেই কর্পোরেট জগতে পূর্ণকালীন (Full-time) চাকরি করেন। হাওয়াই দ্বীপে একটি বিলাসবহুল বিমান ভ্রমণের জন্য তাঁরা গত কয়েক মাস ধরে একটু একটু করে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সমস্ত আনন্দ ও উত্তেজনা এক নিমেষে ভেস্তে যায় যখন সকাল ৯টা নাগাদ স্বামীর বসের কাছ থেকে একটি আকস্মিক ফোন আসে। ফোনে ওপার থেকে শুধু বলা হয়, “আপনাকে এক্ষুনি একটি জরুরি মাইক্রোসফট টিমস (Microsoft Teams) মিটিংয়ে আসতে হবে।”
সব জেনেও কোম্পানির নির্মম রূপ!
মহিলাটির অভিযোগ, তাঁর স্বামী যে পুরো সপ্তাহ জুড়ে ছুটির (Leave) আবেদন মঞ্জুর করিয়েই এখানে এসেছেন, সে বিষয়ে কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্তারা ভালোভাবেই অবগত ছিলেন। হাওয়াইতে পরিবারের সঙ্গে সেটিই ছিল তাঁর স্বামীর প্রথম দিন। কিন্তু ছুটির তোয়াক্কা না করে ভিডিও কলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ঠান্ডা মাথায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে মিটিংটি শেষ করে দেওয়া হয় এবং তাঁর সমস্ত অফিশিয়াল অ্যাক্সেস ব্লক করে দেওয়া হয়।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই নারী আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমার স্বামী বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘এই আলোচনাটা কি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করা যেত না?’ কোম্পানির কি এতটুকুও সহানুভূতি নেই? এখন এই চরম মানসিক ধাক্কার পর, আমরা কীভাবে এমনভাবে ছুটি কাটাব যেন কিছুই ঘটেনি?”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন
এই ভিডিওটি সামনে আসার পর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এই নিষ্ঠুর মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করছেন। আধুনিক কর্পোরেট কালচারের ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ (Hire and Fire) নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা।
ভিডিওর কমেন্ট বক্সে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এ কারণেই আমি ছুটির দিনে অফিসের কোনো ফোন ধরি না বা ইমেল চেক করি না। ছুটি মানে আমি কোম্পানির জন্য মৃত।” আরেকজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “কোম্পানিগুলো আপনার সাথে এমন আচরণ করে যেন মানুষের কোনো অস্তিত্বই নেই, আপনি কেবলই একটি নম্বর। তাই কোনো ভালো সুযোগ এলে নতুন চাকরির প্রস্তাব লুফে নেওয়ার জন্য কখনো অপরাধবোধে ভুগবেন না, কারণ এরা আপনার বিপদে এক সেকেন্ডও ভাববে না।”
ছুটির মেজাজকে এক লহমায় বিষাদে বদলে দেওয়া এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, বর্তমান কর্পোরেট দুনিয়ায় মানবিকতার চেয়েও ব্যবসার লাভ-ক্ষতির অঙ্কটাই শেষ কথা বলে।