‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি!’-সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়ে সোচ্চার ইমরান-সোনাক্ষীরা

দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের জেরে সৃষ্ট উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে নিজের দাবিতে অনড় লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর-মন্তরে ১৯ দিন ধরে তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন চলছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁর এই লড়াইয়ে এবার শামিল হলেন বলিউডের প্রথম সারির তারকারা।

পাশে দাঁড়িয়েছেন বি-টাউনের তারকারা ইমরান খান, ফাতিমা সানা শেখ এবং সোনাক্ষী সিনহার মতো তারকারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনম ওয়াংচুকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই দাবি, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, তার দায় সরকারকে নিতেই হবে।

  • ইমরান খানের বার্তা: তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। যদি শিক্ষার্থীরা সততার সাথে পরীক্ষা দেয়, তবে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাকেও স্বচ্ছ হতে হবে। লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর পরিশ্রমের মূল্য এভাবেই ধূলিসাৎ হতে দেওয়া যায় না।

  • ফাতিমা সানা শেখের উদ্বেগ: তিনি সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যিনি এত অবদান রেখেছেন, সেই মানুষটিকে নিজের ন্যায্য কথা শোনাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

  • সোনাক্ষী সিনহার কড়া প্রশ্ন: সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে সোনাক্ষী প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন মানুষের জীবন সংকটে পড়ার পরই কি সরকার আলোচনার টেবিলে বসবে?”

বলিউডের দীর্ঘ তালিকা শুধু এই তিন তারকা নন, এর আগে শাবানা আজমি, জিনাত আমান, প্রকাশ রাজ, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, সোনি রাজদান ও ওমি বৈদ্যের মতো ব্যক্তিত্বরাও সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। সরকারের কাছে তাঁদের একটাই আর্জি—শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এবং এই সংকটের দ্রুত সমাধান করা হোক।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘিরে সারা দেশে যে ক্ষোভের দাবানল তৈরি হয়েছে, যন্তর-মন্তরের এই অনশন তাকেই যেন এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে কোনো বড়সড় আলোচনার উদ্যোগ না থাকায় বাড়ছে জনরোষ। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে এই আন্দোলন এখন একটি জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *