‘উন্নয়নের অভাব’, দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই বিস্ফোরক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল! স্কুলগাড়ি দুর্ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ

কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিং-এ ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুলগাড়ি। প্রাথমিকভাবে ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও, বর্তমানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫-এ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী?
আহত পুলকার চালকের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলের লেভেল ক্রসিংটি সেই সময় খোলা ছিল। চালকের ভাইয়ের অভিযোগ, একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ক্রসিং খুলে দিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই স্কুলগাড়িটি লাইন পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা অপর একটি ট্রেনের সামনে পড়ে যায়। গেটম্যানের চরম গাফিলতিকেই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রাই অভিযুক্ত গেটম্যানকে রেলের কেবিনে আটকে রেখে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত গেটম্যানসহ মোট দুই রেলকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে এবং পুলিশ গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার দায় নিয়ে রাজনীতি
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “আগের সরকার উন্নয়নের কোনো কাজ করতে দেয়নি। বহু জায়গায় ওভারব্রিজের পরিকল্পনা থাকলেও বাধা দেওয়া হয়েছে।” মন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট ছোট প্রাণ চলে গেল, এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যে দায়িত্বে ছিল, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা
দুর্ঘটনার তীব্রতা বিবেচনায় রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে রেলের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে।