হঠাৎ অন্ধকার! সিনেমা হলের ভেতর দৌড়াদৌড়ি দেখে ভয়ে কাঁপলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ভ্লগার, তারপর যা হলো…

চেন্নাইয়ের এক মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে সাংস্কৃতিক ধাক্কার সম্মুখীন হলেন এক দক্ষিণ কোরিয়ান ভ্লগার। সম্প্রতি নিজের দুই ছেলেকে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়ে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহের একটি বিশেষ পদ্ধতির সাক্ষী হয়ে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন জং এ নামে ওই মহিলা। যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার তুঙ্গে।

ভয়ের সেই মুহূর্ত:
ভিডিওতে জং এ জানান, সবকিছুই দক্ষিণ কোরিয়ার মতোই ছিল, শুধু সিনেমা চলাকালীন হঠাৎ পর্দা কালো হয়ে যাওয়া এবং প্রেক্ষাগৃহের আলো নিভে যাওয়ায় তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। চারপাশে দর্শকদের আচমকা আসন ছেড়ে বেরিয়ে দৌড়াতে দেখে তিনি ভেবেছিলেন কোনো জরুরি অবস্থা বা বড় ধরনের বিপদ ঘটেছে। কিন্তু পরক্ষণেই যখন তিনি জানতে পারেন এটি কেবল সিনেমার ‘ইন্টারভ্যাল’ বা বিরতি, তখন তিনি হাসি থামাতে পারেননি।

সাংস্কৃতিক পার্থক্য:
নিজের ভ্লগে জং এ ব্যাখ্যা করেছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ সিনেমাও কোনো বিরতি ছাড়াই দেখানো হয়। কেউ শৌচাগারে যেতে চাইলে অন্য কাউকে বিরক্ত না করে নীরবে বেরিয়ে যান। কিন্তু ভারতে সিনেমার মাঝে বিরতি দেওয়ার এই পদ্ধতিটি প্রথমে তাঁর কাছে অদ্ভুত মনে হলেও, এখন তিনি একে বেশ সুবিধাজনক বলে মনে করছেন। বিরতির মাধ্যমে দর্শকদের বিশ্রাম এবং নাস্তা কেনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি একটি ‘উৎকৃষ্ট’ পদ্ধতি হিসেবেই দেখছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত:
জং এ-র এই ভিডিও ভাইরাল হতেই ইন্টারনেট জগতে এক নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

একপক্ষের দাবি: দীর্ঘ তিন ঘণ্টার সিনেমা দেখার সময় বিরতি অত্যন্ত জরুরি, যাতে দর্শকরা শরীর টানটান করতে বা একটু বিরতি নিতে পারেন।

অন্যপক্ষের দাবি: বিরতি কেবলই প্রেক্ষাগৃহের একটি ব্যবসায়িক কৌশল। তাদের মতে, মূলত পপকর্ন ও স্ন্যাকসের বিক্রি বাড়ানোর জন্যই সিনেমা মাঝপথে থামিয়ে বিরতি দেওয়া হয়।

সিনেমা দেখা কি শুধুই বিনোদন, নাকি এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্ন্যাকস ব্যবসার কৌশল? ভারত এবং কোরিয়ার সংস্কৃতির এই পার্থক্যের ছবি এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *