ঐতিহাসিক দুর্গে দুঃসাহসিক চুরি! ট্রাক-ক্রেন নিয়ে এসে ১৬ শতকের কামান লুঠ করল দুষ্কৃতকারীরা

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার নারওয়ার দুর্গে এক নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটল। ১৫-১৬ জুলাইয়ের রাতে প্রায় ২৫ জনের এক সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী দল দুর্গের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ১৬ শতকের একটি বহুমূল্য ঐতিহাসিক কামান নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের উদাসীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
পরিকল্পিত অপরাধ:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনাটি হঠকারী কোনো চুরি ছিল না, বরং ছিল সুপরিকল্পিত। ভারী ধাতব কামানটি পরিবহনের জন্য দুষ্কৃতকারীরা আগে থেকেই ক্রেন এবং ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন নিয়ে প্রস্তুত ছিল। দুর্গের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে তারা নিরাপত্তা কর্মীদের জিম্মি করে এই কাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার প্রায় ১২ দিন আগে থেকেই দুর্গ চত্বরে কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নজরে এলেও নিরাপত্তা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তার করুণ দশা:
দুর্গে কর্তব্যরত রক্ষী বল কিষাণ জানিয়েছেন, গভীর রাতে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা যখন হানা দেয়, তখন তাঁর হাতে আত্মরক্ষার জন্য ছিল মাত্র একটি লাঠি! এমনকি রাতের অন্ধকারে দেখার জন্য একটি টর্চও ছিল না। হত্যার হুমকি দিলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পিছু হঠতে বাধ্য হন। এই ঘটনার ফলে দুর্গের ১৪টি কামানের মধ্যে এখন অবশিষ্ট মাত্র ১৩টি।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও চোরাচালান:
চুরি হওয়া কামানটি ছিল ষোড়শ শতকের বিরল এক নিদর্শন। আটটি ধাতুর মিশ্রণে তৈরি এই কামানটি মুঘল ও কাচওয়াহা যুগের উন্নত সামরিক কৌশলের প্রতীক। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক কালোবাজারে এ ধরনের প্রাচীন নিদর্শনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। তাই এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক আইনে মামলা দায়ের করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। করইরা মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিওপি) প্রশান্ত শর্মা জানিয়েছেন, তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপ-পরিচালক তরুণ কুমার মহোবিয়া নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশের জাতীয় ঐতিহ্যের এই অমূল্য নিদর্শন উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ এখন প্রশাসনের সামনে। সময়মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশের এই গর্বের ঐতিহ্য রক্ষা করা যেত কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেছে।