লোহিত সাগরেও যুদ্ধের আঁচ! ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি বিশ্বকে বড় সঙ্কটের দিকে ঠেলছে?

ইরান ও আমেরিকার নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালীর পর এবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু লোহিত সাগর (Red Sea)। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যদি তাদের কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা হয়, তবে তারা লেবাননের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে। এই জলপথ বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের শুরু।

কেন উদ্বেগে ভারত?
ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাত ভারতের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর জন্য লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হলো সবথেকে সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব:
উৎপাদন ও শিল্পে ধাক্কা: ইউরোপ থেকে ভারত প্রচুর পরিমাণে ভারী শিল্প যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল আমদানি করে। লোহিত সাগরের পথ বন্ধ হলে বা ঘুরপথে বাণিজ্য করতে হলে সময় ও খরচ—দুইই বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন ইউনিটগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা: পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে বাজারে শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ শিল্প থেকে শুরু করে বড় কোম্পানিগুলো—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন স্তিমিত থাকার পর ফের ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিমানবন্দর ও সেতুতে হামলার ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াতকারী জাহাজে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতেই ইরান এবার লোহিত সাগরকে তাদের নতুন রণক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে।

এই জলপথ যদি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, তবে তা কেবল ইরান-আমেরিকা নয়, বরং গোটা বিশ্বের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। নয়াদিল্লি পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *