২১ শের আগেই ব্রাত্য বসুও ঋতব্রত শিবিরে? কালীঘাট থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন TMC নেতা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জনসমক্ষে দেখা মেলেনি দমদমের তিনবারের বিধায়ক ও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই এবার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায়!
মমতার তোপ ও ব্রাত্যর অবস্থান: বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ বলেছেন, “পুলিশ বা সিআইডি-র চাপে যাঁদের চলে যাওয়ার আছে, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান। আমি কাউকে আটকাব না।” নেত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্রাত্য বসু কার্যত কালীঘাটের সঙ্গ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। যদিও এই বিষয়ে ব্রাত্য বসু বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।
শুধু ব্রাত্য নন, তালিকায় আরও বড় নাম: সূত্রের খবর, ব্রাত্য বসুর পাশাপাশি জঙ্গলমহলের প্রভাবশালী নেত্রী ও মানবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক সন্ধ্যারাণী টুডুও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিতে পারেন। সন্ধ্যারাণীর মতো আদিবাসী মুখ বিদ্রোহী জোটে নাম লেখালে তা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কালীঘাট থেকে দিল্লিতেও ভাঙন: তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ইতিমধ্যেই ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে দাবি করেছেন। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, দুই শিবিরের লড়াই তীব্রতর হচ্ছে।
অন্যদিকে, লোকসভাতেও তৃণমূলের ভিত নড়ে গিয়েছে। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ থেকে ২০ জন সাংসদ এখন বিদ্রোহী এনসিপিআই (NCPI) শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাঁরা ওম বিড়লার কাছে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি, রাজ্যসভায় কোয়েল মল্লিক, সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো হেভিওয়েট নেতারা ইস্তফা দেওয়ায় কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ যে ক্রমশ আলগা হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২০২৬-এর হারের ক্ষত এখনো শুকোয়নি, তার মধ্যেই একের পর এক শীর্ষস্থানীয় নেতার দলত্যাগ ও বিদ্রোহী মনোভাব রাজ্যের শাসকদলকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, ২১ জুলাইয়ের আগে এই ‘লোটা-কম্বল’ গুছিয়ে যাওয়ার তালিকা কতটা দীর্ঘ হয়।