পিওজেক উত্তাল: লং মার্চ স্থগিতের নেপথ্যে ‘মিথ্যা’ আলোচনার ফাঁদ? ২১ জুলাইয়ের চরমপত্র ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেক) পরিস্থিতি কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গত ৪০ দিন ধরে চলা তীব্র গণবিক্ষোভের মধ্যেই এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আলোচনার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
আলোচনার দাবি বনাম সত্যতা
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ জুলাই। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC) দাবি করে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আলোচনার জন্য তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ওভারসিজ পাকিস্তানিজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ কামার রাজাকে পাঠিয়েছেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই জেএসি মুজাফফারাবাদ অভিমুখে তাদের দীর্ঘ পদযাত্রা (লং মার্চ) স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
তবে এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাফ জানিয়ে দেয়, কোনো আলোচনার জন্য তারা কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পিওজেক-এর আইনমন্ত্রী আকিল মালিকও সরকারিভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
২১ জুলাইয়ের ডেডলাইন
আন্দোলনকারীদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের অভিযোগ, সরকার ও সেনাবহিনী আলোচনার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করছে। এই প্রতারণার প্রতিবাদে JAAC কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকার ও সেনাকে আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত আল্টিমেটাম বা চরমপত্র দিয়েছে। কমিটির স্পষ্ট ঘোষণা, দাবিপূরণ না হলে ২২ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হবে মুজাফফারাবাদ লং মার্চ। পাশাপাশি, চলমান অবস্থান ধর্মঘট এবং গণআন্দোলন আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো:
গ্রেপ্তারকৃত জেএসি নেতা ও কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি।
অঞ্চল থেকে নিরাপত্তা অভিযান প্রত্যাহার এবং ইন্টারনেটসহ সব ধরনের যোগাযোগ পরিষেবা স্বাভাবিক করা।
পূর্বে সম্মত হওয়া ৩৮-দফা সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন।
উন্নত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সুশাসন এবং বিদ্যুৎ ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৪০ দিনে ৭৩ জনের মৃত্যু: চরম ক্ষোভ
গত ৪০ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্স এখনও ৫৭ জনের মৃতদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি, যা জনগণের ক্ষোভকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি পিওজেকবাসীর এই অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে এক বিপজ্জনক মোড় দিতে পারে। যেখানে সাধারণ মানুষ এখন শেষ লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, সেখানে সরকার কতটা নমনীয় হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।