এককালে দ্রুত ঘুরত প্লুটোর চাঁদ ‘শ্যারন’! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন বিজ্ঞানীরা

আমাদের সৌরজগতের সুদূরতম প্রান্তে অবস্থিত প্লুটো এবং তার বৃহত্তম উপগ্রহ ‘শ্যারন’ (Charon) নিয়ে গবেষণায় এল এক নতুন মোড়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কোটি কোটি বছর আগে শ্যারন আজকের মতো ধীরগতির ছিল না; বরং এর ঘূর্ণনের গতি ছিল অনেক বেশি। প্লুটোর শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টানের কারণেই কালক্রমে এই উপগ্রহটি তার ঘূর্ণন গতি কমিয়ে ফেলেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

কীভাবে জানা গেল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য?
২০১৫ সালে নাসার মহাকাশযান ‘নিউ হরাইজনস’ (New Horizons) প্লুটো ও তার উপগ্রহগুলোর যে ছবি তুলেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (UCLA)-এর গবেষক হানঝাং চেন ও তাঁর দল। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা নেচার কমিউনিকেশনস-এ।

গবেষকদের মতে, শ্যারনের পৃষ্ঠভাগ প্রায় কোটি বছর ধরে অপরিবর্তিত এবং বরফাবৃত অবস্থায় রয়েছে। এটি যেন একটি হিমায়িত ‘টাইম ক্যাপসুল’। উপগ্রহটির উত্তর গোলার্ধের ‘ওজ টেরা’ (Oz Terra) এলাকায় দীর্ঘ পর্বতমালা, বিভিন্ন ফাটল এবং শিলাস্তরের বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

ঘূর্ণনের গতি কমে যাওয়ার প্রভাব:
গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে শ্যারনের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগত মাত্র ১৪.৩ ঘণ্টা। কিন্তু প্লুটোর জোয়ার-ভাটার বল বা টাইডাল ফোর্সের প্রভাবে এই উপগ্রহের আকৃতি পরিবর্তিত হয়। সময়ের সাথে সাথে এর বিষুবরেখা বরাবর চ্যাপ্টা ভাব কমতে থাকে এবং উপগ্রহটির বরফের স্তর সংকুচিত হয়ে তাতে ফাটল ও খাঁজের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শ্যারন প্লুটোর সঙ্গে ‘টাইডাল লকড’ (Tidally Locked) অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ এটি এখন নিজের অক্ষে যতক্ষণে ঘোরে, প্লুটোকে প্রদক্ষিণ করতেও ঠিক ততটাই সময় নেয়।

কেন শ্যারন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ইউরোপা বা এনসেলাডাসের মতো বরফাবৃত উপগ্রহের তুলনায় শ্যারনে ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা অনেক কম এবং সেখানে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে কোটি কোটি বছর আগের ভূতাত্ত্বিক ঘটনাগুলোর নিখুঁত ছাপ আজও এর বুকে অটুট রয়েছে। এই গবেষণাটি আমাদের সৌরজগতের আদিম ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করবে। শ্যারনের শীতল অভ্যন্তরীণ গঠন এবং এর ওপর প্লুটোর প্রভাবের এই নতুন দিকটি মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।

নিউ হরাইজনস অভিযানের এক দশক পেরিয়ে গেলেও, প্রাপ্ত তথ্যভাণ্ডার থেকে আজও বেরিয়ে আসছে মহাবিশ্বের অজানা সব কাহিনী। শ্যারনের এই প্রাচীন ইতিহাস জানান দিচ্ছে, মহাকাশ কত শান্ত মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে বড় বড় সব পরিবর্তনের গল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *