বালিতে যাওয়ার আগে সাবধান! আপনার স্বপ্নের ছুটি মাটি করতে পারে ‘বালি বেলি’, জেনে নিন বাঁচার উপায়

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ঘুরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। মূলত দূষিত খাবার ও জল অথবা অপরিচিত অঞ্চলের ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে পর্যটকদের এই পেট খারাপের সমস্যাকে স্থানীয়রা ‘বালি বেলি’ বলে থাকেন। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়, তবুও ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট করতে এর জুড়ি নেই। সুস্থ থাকার জন্য নিচে দেওয়া সতর্কতাগুলো অবশ্যই মেনে চলুন:
জল পানে সতর্ক থাকুন
বালির কলের জল খাওয়ার জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের সিল করা বোতলজাত জল ব্যবহার করুন। বোতলের ক্যাপ সিল করা আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন। এমনকী দাঁত মাজার সময়ও বোতলের জল ব্যবহার করাই শ্রেয়। বাইরে জুস, স্মুদি বা আইসড কফি খাওয়ার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে বরফটি বিশুদ্ধ জল দিয়ে তৈরি কি না।
খাবার নির্বাচনে বাছবিচার জরুরি
যেকোনো খাবার খাওয়ার সময় তা যেন সদ্য রান্না করা এবং গরম থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাফে (Buffet)-তে বেশিক্ষণ রাখা খাবার, কাঁচা মাংস, সামুদ্রিক মাছ বা ডিম এড়িয়ে চলুন। ফলমূলের ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যায় এমন ফল (কলা, কমলা বা আম) নির্বাচন করুন। রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে জনপ্রিয় ও পরিষ্কার রেস্তোরাঁকে প্রাধান্য দিন।
পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত সচেতনতা
হাত ধোয়ার কোনো বিকল্প নেই। খাওয়ার আগে ও পরে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন। সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন হাত ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন যাতে তারা মুখে নোংরা হাত না দেয়। এছাড়া নিজের ব্যবহারের জলের বোতল নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
ভ্রমণ ব্যাগে রাখুন প্রয়োজনীয় সামগ্রী
হঠাৎ পেট খারাপের ঝুঁকি কমাতে ব্যাগে শুকনো খাবার যেমন—বিস্কুট, নাটস বা প্রোটিন বার রাখুন। ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ORS) সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোবায়োটিক সাথে নিতে পারেন।
অসুস্থ হলে যা করবেন
যদি বালি বেলির উপসর্গ দেখা দেয়, তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পরিমাণে জল বা তরল খাবার গ্রহণ করুন। এসময় ভাত, কলা, টোস্ট বা পাতলা ঝোল জাতীয় সহজপাচ্য খাবার খান। দুগ্ধজাত পণ্য, ঝাল বা ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টি-ডায়রিয়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ শরীরের ভেতর থেকে সংক্রমণ বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি ডায়রিয়া ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, প্রচণ্ড জ্বর আসে, মলের সঙ্গে রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকে এবং পেটে তীব্র ব্যথা হয়—তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ, যা অবহেলা করা উচিত নয়।
একটু সচেতনতাই পারে আপনার বালি ভ্রমণের স্মৃতিকে সুন্দর করে রাখতে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করুন আর উপভোগ করুন দ্বীপদেশটির অপরূপ সৌন্দর্য!