মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিংহাসনচ্যুত! জনপ্রিয়তায় এবার চীনকে টপকে বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক?

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে গত দুই দশকের হিসাব ওলটপালট করে দিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার দৌড়ে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। ৩৬টি দেশের ওপর চালানো এই সমীক্ষা বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২৫টি দেশে এগিয়ে চীন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, ২৫টি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে মানুষ অধিক ইতিবাচকভাবে দেখছে। শুধুমাত্র দেশ নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা অনেক বেশি। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২২টি দেশে ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মাশুল?
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক বিবাদ, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপে বিরক্ত বিশ্বের বড় একটি অংশ। বিশেষ করে কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনসমর্থন ২০২৩ সালের ৫৭ শতাংশ থেকে কমে এ বছর ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে, একই সময়ে কানাডায় চীনের জনপ্রিয়তা ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম বিশ্বস্ততা
যদিও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চীনের প্রতি বৈশ্বিক উদ্বেগ এখনো কাটেনি, তবুও বেইজিংকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার’ হিসেবে দেখছে বিশ্ব। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে আমেরিকা এখনো এগিয়ে থাকলেও, সেই ব্যবধান ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে
আন্তর্জাতিক প্রভাব হ্রাসের পাশাপাশি খোদ মার্কিন মুলুকেও চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত এপ্রিল এবং মে মাসে রয়টার্স/ইপসোস-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৬ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং বিদেশে অহেতুক সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষোভই এর মূল কারণ।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বে মার্কিন নেতৃত্ব যে দাপট ধরে রেখেছিল, পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই রিপোর্ট সেই আধিপত্যে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়ে দিল। বিশ্বমঞ্চে চীনের এই উত্থান আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন কোন মোড় নিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।