মন্দিরে দর্শনের নামে ডেকে এনে নৃশংস খুন! ছক কষে স্বামীকে মারল স্ত্রী, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল সত্য

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায়। গুডিপাল্লি মণ্ডলের মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে দর্শনের জন্য নিয়ে গিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্ত্রী হাসিনী ও তার প্রেমিক যুগন্ধর সহ মোট ৪ জনকে।
কীভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
তামিলনাড়ুর সুলাগিরির বাসিন্দা রমেশের সাথে দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছিল হাসিনীর। তাদের এক বছরের একটি শিশুকন্যাও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিয়ের পরও হাসিনীর পুরনো বন্ধু যুগন্ধরের সাথে সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, এই সম্পর্কের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানোয় রমেশকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসিনী তার স্বামীকে মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে যাওয়ার জন্য রাজি করায়। স্বামী, স্ত্রী ও তাদের এক বছরের শিশুকন্যা মোটরসাইকেলে রওনা হয় মন্দিরের দিকে। পুলিশের দাবি, যাত্রাপথে হাসিনী ক্রমাগত তার মোবাইলের ‘লাইভ লোকেশন’ প্রেমিক যুগন্ধরকে পাঠাচ্ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস আসল রহস্য:
পাহাড়ি রাস্তার তৃতীয় বাঁকের কাছে পৌঁছাতেই হাসিনী ইচ্ছাকৃতভাবে তার মানিব্যাগটি ফেলে দেয়। রমেশ বাইক থামিয়ে সেটি তুলতে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা যুগন্ধর ও তার দলবল তাকে আক্রমণ করে। অভিযোগ, শিশুকন্যার সামনেই রমেশকে মারধর করে জঙ্গলের ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়ে খুন করে তারা।
ঘটনাটি তখনো জানাজানি হয়নি। হাসিনীর মা যখন দেখেন যে তার মেয়ে ও নাতনি বাড়ি ফেরেনি, তখন তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্ত শুরু করে পুলিশ ওই মন্দিরের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানেই ধরা পড়ে আসল ছবি। পুলিশ দেখতে পায়, প্রথমে রমেশের সাথে হাসিনী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু পরে ফেরার সময় বাইকে রমেশের বদলে অন্য পুরুষরা ছিল। এই ক্লু ধরে এগোতেই উদ্ধার হয় রমেশের মৃতদেহ।
তদন্তে প্রযুক্তিই তুরুপের তাস:
মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং সিসিটিভি ফুটেজের মতো ডিজিটাল প্রমাণই অপরাধীদের জালে তুলতে সাহায্য করেছে। পুলিশ হাসিনী, যুগন্ধর এবং তাদের দুই সহযোগীকে হেফাজতে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিজেদের চোখের সামনে ঘটা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং এক শিশুকন্যার অভিভাবক হারিয়ে ফেলার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার আরও গভীরতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।