অবসরের ঠিক ১৫ দিন আগে হাতকড়া! ৭২ কোটির সরকারি জালিয়াতিতে আটক শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ার

অবসর গ্রহণের আর মাত্র ১৫ দিন বাকি। ঠিক এমন এক সময়েই বিশাল বড় আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কর্ণাটক রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (KRIDL)-এর এক শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ার। কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলায় প্রায় ৭২ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের অর্থ তছরুপের অভিযোগে এই গ্রেফতারি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে প্রশাসনিক মহলে।
কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি?
দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে ঘটা এই অনিয়মের তদন্তে নেমে লোকায়ুক্তের গোয়েন্দারা হতবাক। আটক আধিকারিক হলেন কেআরআইডিএল-এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জেড. এম. চিঞ্চোলকর এবং তার সাথে জড়িত ঠিকাদার দেবরাজ। লোকায়ুক্তের দাবি, সরকারি প্রকল্পের নামে অন্তত ৩৩৯টি এমন কাজের বিল তৈরি করা হয়েছিল, যার অস্তিত্ব বাস্তবে নেই। কোনো কাজ না করেই প্রায় ৭২ কোটি টাকার সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু থেকে ইঞ্জিনিয়ার চিঞ্চোলকরকে গ্রেফতার করার পরই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
শুধু জালিয়াতিই নয়, জিএসটি নিয়েও কেলেঙ্কারি:
তদন্তকারীদের নজরে শুধু সরকারি অর্থ তছরুপই নয়, রয়েছে জিএসটি (GST) সংক্রান্ত বিশাল জালিয়াতিও। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে ২০ কোটি টাকারও বেশি জিএসটি অপব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। এই বিষয়ে একটি পৃথক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
অভিযুক্তের বিতর্কিত অতীত:
জানা গেছে, গত বছরই ইঞ্জিনিয়ার চিঞ্চোলকরের বিরুদ্ধে কেআরআইডিএল কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে লোকায়ুক্তের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এমনকি সে সময় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে আদালতের কাছ থেকে স্থগিতাদেশ (Stay order) নিয়ে তিনি পুনরায় কাজে যোগ দেন। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না।
বর্তমানে ওই ইঞ্জিনিয়ার এবং ঠিকাদার—দুজনই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে ইঞ্জিনিয়ার চিঞ্চোলকরকে পুনরায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে লোকায়ুক্তের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলিতে আর কাদের নাম উঠে আসে, তা নিয়ে এখন সরগরম কর্ণাটকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।