১৯ দিনে ৯ কেজি ওজন হ্রাস! সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন আদালত

শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ১৯ দিন ধরে অনশন চালাচ্ছেন প্রখ্যাত জলবায়ু ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জাতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলা এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা ও অনশন:
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, অনশনের ফলে সোনাম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই অনশন এখন অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বুধবারই সোনাম ওয়াংচুক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। তিনি মনে করেন, কোনো সুরাহা ছাড়া অনশন প্রত্যাহার করলে তা ভুল বার্তা দেবে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ:
সোনাম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছিল। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, “নাগরিকের জীবন অমূল্য এবং তা রক্ষার জন্য সরকারের সবরকম প্রচেষ্টা করা উচিত।”
সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর প্রতিদিন নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সলি সিটার জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে জানান যে, তারা সোনাম ওয়াংচুকের নিয়মিত মেডিকেল চেকআপে কোনো বাধা দেবেন না।
আগামী কর্মসূচি:
সোনাম ওয়াংচুক সাধারণ মানুষকে আগামী ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত সহ দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তারকারা সরকারকে অবিলম্বে ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসার আবেদন জানিয়েছেন।
গত ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই অনশন এবং ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এখন দিল্লির রাজনৈতিক মহলে বড়সড় চাপের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার প্রস্তাব আসে কি না।